প্রেমের দায়ে মারধরে ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি যুবক
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধুখালীতে ধনীর মেয়েকে ভালোবাসার দায়ে মারধরের শিকার হন সম্রাট শেখ নামের যুবক। মারধরের সময় মাথায় আঘাতের ফলে এক সপ্তাহে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বর্তমানে শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব তার পরিবার। স্থানীয়রা জানায়, মধুখালীর ঝাউহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলে সম্রাট শেখ। মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠী এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু দরিদ্র কৃষকের ছেলে হওয়ায় সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়েটির ধনী পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, এক রাতে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা সম্রাটকে ধরে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুদিন পর মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে সম্রাটের মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। গত ৫ বছর ধরে শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটছে সম্রাটের। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের প্রায় সব সম্পত্তি শেষ হয়ে গেছে। তবুও সুস্থ হননি সম্রাট। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং অন্যদের মারতে আসার কারণে এখন বাধ্য হয়ে তার পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সম্রাটের বড় ভাই সোহাগ শেখ বলেন, বর্তমানে তার প্রতিদিন ৪০০ টাকার ওষুধ লাগে। আমি দিনমজুরের কাজ করে ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ চালাই। সম্রাটের মা পরী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মারধরের এক সপ্তাহের পর থেকে আমার ছেলে পাগল হয়ে যায়। আমাকেও চিনতে পারে না, মারতে আসে। আমি সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাই। ডাক্তার বলেছে ভালোভাবে চিকিৎসা করালে ছেলে ভালো হয়ে যেতে পারে।
