ঝুলছে দেড় লাখ ফৌজদারি মামলা
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাক্ষীর অভাবে আটকে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন থানায় করা মামলায় যেসব পুলিশ সদস্য সাক্ষী হিসাবে বছরের পর বছর আদালতে হাজির হচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে সমন ও ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা’ জারি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭০০ পুলিশ সাক্ষীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুলিশ সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে গতি আসছে না। চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে প্রায় দেড় লাখ ফৌজদারি মামলা ঝুলছে।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যা ও গুরুতর অভিযোগের মামলায় পুলিশ সদস্যরা সাক্ষ্য দিতে বছরের পর বছর আদালতে হাজির হন না। বদলির কারণে অনেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত। ফলে সাক্ষীর সমন বা মামলার তারিখ অনেক সময় তারা জানতে পারেন না, কিংবা দেরিতে জানতে পারেন। এতে মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে।
১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালত একটি হত্যা মামলায় পুলিশ কমিশনারকে সাক্ষী হাজিরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, ২০২২ সালে করা ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর বাদীসহ অন্য সাক্ষীদের হাজির করতে বারবার প্রসেস ইস্যু করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাদের হাজির করতে পারেনি। ফলে পুরোনো মামলাটির বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম আদালতের একাধিক পিপি জানান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আদালত আন্তরিক। তবে সাক্ষ্য ছাড়া মামলার নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে একের পর এক সমন দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা যথাসময়ে হাজির হন না। পুলিশের তথ্যমতে, আদালতের সমন অনেক সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের পুরোনো কর্মস্থলে পৌঁছে। পরে রিজার্ভ অফিস, সিএমপি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ইউনিট হয়ে নতুন কর্মস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। আবার সমন পাওয়ার পরও নির্ধারিত তারিখে আদালতে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই সমন ও পরোয়ানা জারি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে আটটি আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন ১৩টি আদালতে প্রায় ৩৮ হাজার মামলা ঝুলছে। সাতটি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রায় ৩৬ হাজার এবং সাতটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রায় ১০ হাজার মামলা রয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে প্রায় ৮০০, দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে এক হাজার ২০০, পরিবেশ আদালতে এক হাজার ৪০০, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৫০০ এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে দুই শতাধিক মামলা বিচারাধীন। চট্টগ্রামের আদালতগুলোতে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ৭০০-এর মতো পুলিশ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা বলা হচ্ছে। এটি আইনের একটি প্রক্রিয়া। সাক্ষীকে সময় দেওয়ার পরও হাজির না হলে পরোয়ানা জারি করা হয়। পুলিশ সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর সমস্যা। একজন সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকলে আদালতের সময় অপচয় হয়। সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, পুলিশ সদস্যরা নানা জটিলতায় যথাসময়ে আদালতে হাজির হতে পারেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে তাগাদা বা তলবপত্র জারি করা হচ্ছে, এটিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা বলা যায় না। দূরে বদলি, অসুস্থতা ও সমন যথাসময়ে না পৌঁছানোয় এমনটি হচ্ছে। কোনো কোনো সাক্ষী এরই মধ্যে মারা গেছেন। তারপরও ধার্য তারিখে পুলিশ সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন।
