চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর চান্দিনা ভিটি দখল
গৌরনদীতে বিএনপির ৩ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
Advertisement
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গৌরনদীতে দাবি করা দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ফল ব্যবসায়ী জালাল রাঢ়ীর ডিসিআরকৃত (লিজ) চান্দিনা ভিটি দখল করে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী সীমা বেগম বাদী হয়ে সম্প্রতি গৌরনদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বায়জিদ সরদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সীমা বেগম অভিযোগে বলেন, তার স্বামী জালাল রাঢ়ী প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে মাহিলাড়া বাজারের একটি চান্দিনা ভিটি ডিসিআর (লিজ) নিয়ে সেখানে গোডাউন নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিবছর ওই ভিটির লিজের টাকা উপজেলা ভূমি অফিসে রাজস্ব খাতে জমা দিয়ে নবায়নও করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দোকানঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর নতুন করে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি জালাল রাঢ়ী ওই ভিটিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা সজল সরকার, জাফর ইকবাল ও বায়জিদ সরদার তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা সহযোগীদের নিয়ে খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভিটিটি দখল করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান সীমা। অভিযুক্তদের ভয়ে তার স্বামী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজল সরকার ও বায়জিদ সরদার। তারা বলেন, ওই চান্দিনা ভিটির কাছাকাছি বাজারের গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। নলকূপের হেড প্রায় ২০ ফুট দূরে সরিয়ে বসানো হয়েছে। এ কারণে ডিসিআর বাতিলের জন্য এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কেউ যাতে সেখানে ঘর নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। জাফর ইকবাল বলেন, তিনি ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে বিরোধ মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে ডেকেছিলেন। তবে জালাল রাঢ়ী তার ডাকে সাড়া দেননি। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ওই চান্দিনা ভিটি ডিসিআর নেওয়ার জন্য একাধিক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। তবে ভিটিটি আগে থেকেই জালাল রাঢ়ীর নামে ডিসিআর থাকায় এ বছরও তার নামেই তা নবায়ন করা হয়েছে।
