চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতার হামলা
আদিতমারীতে বাড়িছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, মা-ভাই গৃহবন্দি
বাবা ও ভাগনে হাসপাতালে
Advertisement
কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় আদিতমারীতে বাড়িছাড়া হয়ে পড়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের হামলায় তার বৃদ্ধ বাবা ও ছয় মাস বয়সি ভাগনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং মা ও ছোট ভাইকে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার চড়িতাবাড়ী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে এবং বর্তমানে কালীগঞ্জে উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাহেরুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় খালার ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি। এরপরই তার প্রতিবেশী কমলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূর আলম দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় নূর আলম তাকে যাতায়াতের পথে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। গত ২৬ জুন বাড়িতে এসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই লাখ টাকা দেওয়ার হুমকি দিলে তিনি বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করেন। পরে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় মা-বাবাকে দেখতে বাড়ি ফেরার পথে চড়িতাবাড়ীর মিরেচক এলাকায় তার পথরোধ করে মারধর করা হয়। এতে তার পা ভেঙে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট নূর আলম ও তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম দাবিকৃত চাঁদার সুদ-আসলে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে তার বাড়িতে হামলা চালান। তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবায় কল পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে বাবা ও আহত ছয় মাসের ভাগনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাহেরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উলটো অভিযুক্তরা তার মা ও ছোট ভাইকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, বাড়িছাড়া হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে মনে হয়। চাকরির সুবাদে তিনি কর্মস্থলে থাকতে পারেন। তবে অভিযোগটি খোঁজ নিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীকে থানায় পাঠানো হলে মামলা নেওয়া হবে।
