Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

ছোট গ্রামে বড় তাণ্ডব

Advertisement

Icon

এ এম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কুষ্টিয়া সদরের ইবি থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রাম নলখোলা। ছোট ওই গ্রামে টানা ১২ দিন ধরে চলছে নারকীয় তাণ্ডব। হামলা, ভাঙচুর ও আগুনে আতঙ্কিত পুরো গ্রামের মানুষ। টানা ১২ দিন ধরে গ্রামের ২১ বাড়িতে ঘটেছে হামলা ও আগুনের ঘটনা। থেমে নেই লুটপাট ও চাঁদাবাজি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদল নেতা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রামে শুরু হয়েছে ত্রাসের রাজত্ব। পুলিশের সহযোগিতায় এসব তাণ্ডবলীলা চলছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বৃদ্ধা নুর জাহান বেগম নলখোলা গ্রামের মৃত সেলিম আহমেদের স্ত্রী। রোববার সকালে পুলিশ পরিচয়ে একদল লোক বৃদ্ধা নুর জাহান বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তার অপরাধ কয়েকদিন আগে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। একের পর এক বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় আতঙ্কে ভীত হয়ে পড়েছে পুরো নলখোলা গ্রামের মানুষ। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে চলে গেছেন।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ সংঘাতের রূপ নিয়েছে। সেই সামাজিক দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক রং দিয়ে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি এবং মালামাল লুটের অভিযোগও উঠেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে মসজিদ-গোরস্থানের কমিটিসহ সামাজিক দ্বন্দ্বে নলকোলা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি রুহুলকে দায়ী করেন কৃষক দলের নেতারা। ঘটনার পর পরই ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি রুহুলসহ সাধারণ মানুষের কয়েকটি বাড়ি, দোকান এবং পাট-পেঁয়াজের গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয় আবদুর রহমানের সমর্থকরা। এ ঘটনার পর থেকে গত ১২ দিনে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে ২১ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে বাড়ির বিভিন্ন মালামাল। সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙচুর করা বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বাড়ির মহিলা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। হামলাকারীরা কখনো দলবদ্ধ হয়ে, আবার কখনো রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাড়িতে প্রবেশ করছে। মামলার খরচ হিসাবে পরিবার প্রতি এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, কৃষকদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কোনো সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। হঠাৎ বিএনপি সেজে কৃষকদলের আহবায়কের পদ পেয়ে যান। নেতা হয়ে আ.লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব বাহিনী। শুরু করেন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব। নুর জাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সামাজিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বাড়িতে ও গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে এলাকার একদল লোক। পরে কৃষক দলের স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে এলাকার আরও কয়েকজনের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি আ.লীগের কিছু লোক জড়িত। মামলা করার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কৃষকদল নেতা আবদুর রহমান বলেন, আ.লীগের পালিয়ে থাকা নেতারা এলাকায় ফিরে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। কয়েকদিন আগে আমার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ওসি এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, আমি ব্যস্ত আছি, বাইরে আছি। একটি মার্ডার মামলা নিয়ে অভিযানে আছি। তবে জেলা পুলিশের মুখপাত্র এএসপি ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে তাকে আটক করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ছোট গ্রামে বড় তাণ্ডব

ছোট গ্রামে বড় তাণ্ডব

বান্দরবানে ফুপুর হাতে ভাতিজি খুন

বান্দরবানে ফুপুর হাতে ভাতিজি খুন

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ধস

আশাশুনিতে বেড়িবাঁধে ধস

রাবির ফাইন্যান্স বিভাগে নিয়মবহির্ভূত ফি আদায়

রাবির ফাইন্যান্স বিভাগে নিয়মবহির্ভূত ফি আদায়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম