ফুলবাড়ীর বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়া
ডিজিটাল স্বপ্নে তালা
ছয় বছরেও চালু হয়নি আইসিটি সেন্টার, ধুলায় পড়ে আছে কম্পিউটার
আব্দুল আজিজ মজনু, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উদ্বোধনের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় নির্মিত আইসিটি সেন্টারটি তালাবদ্ধ থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি শেখার স্বপ্ন এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এটি চালু হয়নি আজও। ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটারসহ অন্যান্য সম্পদ ব্যবহৃত না হওয়ায় অবহেলিত জনপদে স্বপ্নের প্রকল্পটি গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় নির্মিত আইসিটি সেন্টারের ভবনটি ২০২১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির চারপাশে আগাছা জন্মেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর সেখানে কিছু আনুষ্ঠানিকতা হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। আশপাশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণী আইসিটি সেন্টারের কোনো সুবিধা আজও পায়নি। ভবনটি অব্যবহৃত ভাবে পড়ে থাকায় দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র নষ্ট হতে বসেছে। দেখা গেছে ভবনটির প্রবেশ পথে গরু বাঁধা, শুকনো খড়কুটো আর ময়লা-আবর্জনায় ভরা। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার গ্যালারিতে স্তূপ হয়ে রয়েছে বিড়ি বা সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ ও প্যাকেট। ভবনটির বাইরে পড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের বোতল। ভেঙে পড়ে আছে জানালাগুলো। ভেতরে চারপাশ মাকড়সার জাল আর ধুলার পাহাড়। জানালার ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে দেখা গেছে কম্পিউটারগুলো এলোমেলো পড়ে আছে।
স্থানীয়রা যুগান্তরকে জানান, উদ্বোধনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট সংযোগ, জনবল নিয়োগ এক অদৃশ্য জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি বছরের পর বছর অকেজো থাকলেও কারও কোনো জবাবদিহিতা নেই। দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক জয়ন্ত চন্দ্র সরকার জানান, ‘ছিটমহলের তরুণদের কম্পিউটার শিক্ষা, ইন্টারনেট সুবিধা এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কথা ছিল এই সেন্টার থেকে। বাস্তবে তারা কোনো সুবিধাই পাননি। এটি সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আইসিটি সেন্টারটি চালু থাকলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, চাকরির প্রস্তুতি ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যেত। বছরের পর বছর ধরে ভবনটি বন্ধ থাকায় আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
ছিটমহল বিনিময়ের আন্দোলনের নেতা আলতাফ হোসেন জানান, এলাকার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার শিখতে ফুলবাড়ী ও কুড়িগ্রামে যেতে হয়। আইসিটি সেন্টারটি চালু হলে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিরাট উপকার হতো। উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আইসিটি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, দাসিয়ারছড়া আইসিটি সেন্টারটিতে কিছু অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। ভবনের উপরের প্লাস্টিকের টিনসহ ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, লোকবলও নেই। কিছু কম্পিউটারের সমস্যা হয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।
