রামুতে কাগজে সারের মজুত মাঠে কৃষকের হাহাকার
Advertisement
হাসান তারেক মুকিম, রামু (কক্সবাজার)
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রামুতে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাদের ভাষ্য, উপজেলায় পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। চাহিদামতো সার না পেয়ে এক ডিলারের দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন কৃষকরা। কোথাও সার পাওয়া গেলেও তা সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কৃষি বিভাগের হিসাবে সংকট না থাকলেও বাস্তবে সার না পেয়ে রামুর শত শত প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছে হাহাকার। কৃষকরা জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য এক হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি সারের মূল্য এক হাজার টাকা। কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে এসব সার প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো সার না পাওয়ায় ফলন নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রামুতে প্রায় ৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ধান এবং ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হলেও প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। কচ্ছপিয়া এলাকার কৃষক আবু তৈয়ব বলেন, তিনি সাত কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনের এক-তৃতীয়াংশ সারও পাননি। ডিলাররা সার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে অল্প কিছু সার পাওয়া গেলেও প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। এতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারায় তিনি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। রাজারকুল দেয়াংপাড়া এলাকার কৃষক সালাউদ্দিন পাঁচ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার ভাষ্য, এখনো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারেননি। ডিলারের কাছে কয়েকবার গিয়েও এক বস্তা সার পাননি। একই এলাকার কৃষক মিজানুর রহমানও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। গর্জনিয়া ইউনিয়নের কৃষক ও সমাজসেবক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গর্জনিয়ার কৃষকরা যথাযথভাবে সার পাচ্ছেন না। তার দাবি, ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত ডিলারের গুদাম গর্জনিয়ায় থাকার কথা থাকলেও সেটি কচ্ছপিয়ায়। তার অভিযোগ, এক হাজার ২০০ টাকার সার দুই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। এদিকে, একই ধরনের অভিযোগের পর কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের কয়েকজন ডিলার কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রামুতে সারের সংকটের পেছনে সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের বিষয়টি অন্যতম কারণ। তাদের দাবি, গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া সীমান্ত দিয়ে গাড়িতে করে সার পাচার হচ্ছে। কিছু ডিলার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার না দিয়ে বেশি দামে অন্যত্র বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিসিআইসি অনুমোদিত ১১ জন সার ডিলার রয়েছেন। আবাদি জমির পরিমাণ বিবেচনায় তাদের সার সরবরাহ করা হচ্ছে। সার সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান তথ্য দিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কথার মারপ্যাঁচে তিনি অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য এড়িয়ে যান। তার দাবি, কোনো ডিলার কৃত্রিমভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করছেন না এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামেও সার বিক্রি করা হচ্ছে না। এসব অভিযোগকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি একাধিক যুক্তি তুলে ধরে তাদের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দেন। কৃষকদের প্রশ্ন, কৃষি বিভাগের হিসাবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলে মাঠে তারা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কেন এবং বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগেরই বা কারণ কী। তাদের দাবি, ডিলারদের বরাদ্দ, প্রকৃত মজুত ও বিতরণব্যবস্থা এবং সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের অভিযোগ-সবকিছু তদন্ত করে দেখা হোক।
