ঘাটাইলে ইউএনও’র নানা অনিয়ম দুর্নীতি
Advertisement
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টেন্ডার আটকে অর্থ দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি অর্থ ছাড়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ঘাটাইল ইউএনও মাহমাদুল হাসানকে বদলি করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসাবে পদায়ন করে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনস্বার্থে জারি করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। ঘাটাইল যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবি বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা টেন্ডারের মাধ্যমে করার কথা। কিন্তু তা না করে কাজ করেছেন কোটেশনের মাধ্যমে। আর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অর্থ উত্তোলন করার অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় যুবদল নেতা জুয়েল মিয়া বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় টেন্ডার আহ্বান করার পর ঠিকাদার শিডিউল ক্রয় করবেন। কিন্তু এখানে কোনো দরপত্র ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অর্থ কেটে রাখার চাপ এবং বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন, স্কুল মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। জানা গেছে, আকন্দের বাইদ প্রাইমারি স্কুল থেকে হারুন চালা পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত সাড়ে ৫০০ মূল্যবান গাছ পানির দরে বিক্রি করেন প্রশিকা কর্মকর্তারা। দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি হলেও প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রশিকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানা যায়। আর এরপরই ঘাটাইলে ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন মাহমাদুল হাসান। যোগদানের পর ওই বিষয়টি তার গোচরীভূত হয়। ফলে তিনি গাছের মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতির কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে কাজ পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা হয়। পরে তিন লাখ টাকায় রফা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ঘাটাইলের ব্যবস্থাপক সেফায়েত উল্লাহ বলেন, বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে সর্বোচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ইউএনও মাহমাদুল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এডিবির বরাদ্দ আসে জুন মাসের মাঝামাঝি। টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘ প্রসেস হওয়ায় সময়ে কভারেজ হয়নি। ফলে কোটেশনের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মধ্যে ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, নলকূপ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস ও ক্রীড়ানুরাগীদের মধ্যে ফুটবলসহ দুটি রাস্তা নির্মাণ কাজে আট লাখ টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়।
