গৃহহীনের ১৫২ ঘরে তালা
Advertisement
তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে রায়পুরে আটটি আশ্রয়ণকেন্দ্রে ৪৬৭ পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর সচ্ছল পরিবারের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের স্বজনরা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।। তারা আবার অনেকেই তাদের গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলো এখন মাদক আর নারী ব্যবসার নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে তাদের হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত। এছাড়া আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে ডিপটিউবওয়েলের (পানি) সমস্যা, কবরস্থান নেই, জলাবদ্ধতা, পুকুর থাকলেও ঘাটলা ভাঙাসহ পুকুর পাড়ের কয়েকটি ঘর ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। টয়লেটগুলো ভেঙে গেছে এবং কলগুলো নষ্ট ও চুরি হয়ে গেছে। বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার বামনী ইউপির বাংলাবাজার, দক্ষিণ চরবংশী ইউপির খলিফারহাট, মিয়ারহাট, উত্তর চরবংশী ইউপির মদিনা বাজার, হাজিমারা এলাকার আশ্রয়ণ ও আবাসনকেন্দ্রে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়।। এসব আশ্রয়ণকেন্দ্রের ১৫২টি ঘরে কেউ না থাকায় সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। তাই নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন জানানো হয় বলে জানান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি খাস জমিতে প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি করে রান্নাঘর, ইউটিলিটি রুম, টয়লেট ও বারান্দা। দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর টেকসই ও প্রতিটি ঘরেই আছে সোলার সিস্টেম আর বজ পাত নিরোধক ব্যবস্থা। প্রতিটি সেমিপাকা ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইটের দেওয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি সব বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হয়। উপজেলার নয়টি আশ্রয়ণকেন্দ্রে বামনী ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৯৪টি, শিবপুরে ১০টি, কেরোয়া ইউনিয়নের মীরগঞ্জ বাজারের পাশে ৯টি, দক্ষিণ চরবংশী ইউপির মেঘনা নদীসংলগ্ন মিয়ারহাটে ৪৫টি, হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে ৪৪টি, কারিমিয়ায় মাদ্রাসার পাশে ১১৭টি, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কুচিয়ামারায় এলাকায় ২৪টি, মদিনা বাজার এলাকায় ৪৩টি, দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামে ৭৯টিসহ মোট ৪৬৭টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে ঘরে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেছেন অনেক উপকারভোগী। ৩৪৩টিতে উপকারভোগীরা বসবাস করলেও বাকি ১৫২টি ঘরে ঝুলছে তালা। যারা বরাদ্দ নিয়েছেন, তারা নিজেদের বাড়িতেই বসবাস করছেন। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা। নিজস্ব পুকুর ও কবরস্থানও নেই। একাধিকবার ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের কাছে আবেদন করলেও পাত্তা দেওয়া হয় না। আটটি আশ্রয়ণকেন্দ্রের তালাবদ্ধ ঘরগুলো হচ্ছে-১৫২টির মধ্যে বামনী ইউপির বাংলাবাজার এলাকায় ৪০টি, দক্ষিণ চরবংশী ইউপির মিয়ারহাট এলাকায় ১৪টি, হাজিমারায় ১৪টি, উত্তর চরবংশী ইউপির মদিনা বাজার এলাকায় ১৩টি, কুচিয়ামারা এলাকায় আটটি, চরআবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামে ১১টি ও কারিমিয়া এলাকায় ৩২টি। অভিযোগে জানা যায়, দক্ষিণ চরবংশীর ইউপি সদস্যরা হাজিমারা ও মিয়ারহাটসহ বিভিন্ন স্থানের আশ্রয়ণকেন্দ্র ও আবাসনকেন্দ্রে ঘর পাওয়া অসহায় নিরীহদের কাছ থেকে ছয় হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিস দলিল রেজিস্ট্রি খরচ হিসাবে নিয়েছে ১২০০ টাকা করে। শুধু তা-ই নয়, ঘর পাওয়াদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে বিনা পয়সায় মাটি কাটা ও ভরাটের কাজসহ শ্রমিক হিসাবেও খাটানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান কাউছার বলেন, আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে ১৫২টি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে। তালিকায় সচ্ছল ব্যক্তি থাকলে তাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।
