কমলনগরে রেডিওলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই পরীক্ষা
বেপরোয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতাল
Advertisement
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমলনগরে প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারি এ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে করইতলা বাজারে গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি প্রাইভেট হাসপাতাল। তবে প্রয়োজনীয় রেডিওলজিস্ট, এক্স-রে টেকনিশিয়ান, ডিপ্লোমাধারী নার্স, দক্ষ জনবল, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এরা বছরের পর বছর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে। এতে ভুল রিপোর্ট, ভুল রোগ নির্ণয় ও ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়ছেন এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনিয়ম, অদক্ষ জনবল দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট প্রদান এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে জরুরিভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মানুষ।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন করইতলা বাজারে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-মেডিকিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাই কেয়ার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্কয়ার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামিয়া ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গাইনি কেয়ার, ইনসাফ ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দেশ মা মাটি ডিজিটাল ল্যাব, নিউ উপকূল ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপকূল ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং লাইফ লাইন প্রাইভেট হাসপাতাল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাই কেয়ার, ইসলামিয়া, দেশ মা মাটি, নিউ উপকূল, উপকূল এবং লাইফ লাইন প্রাইভেট হাসপাতালে এক্স-রে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে কেবল ইসলামিয়া ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনিশিয়ান রয়েছেন। বাকি ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একমাত্র প্রাইভেট হাসপাতালে এক্স-রে পরিচালনার জন্য নেই প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান ও রেডিওলজিস্ট। অদক্ষ জনবল দিয়ে চলছে এক্স-রে ও অন্যান্য কাজ।
‘বাংলাদেশ প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে’র কমলনগর শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসাইন বিপ্লব বলেন, ‘রেডিওলজিস্ট পাওয়া বর্তমানে খুবই কঠিন। তবে এক্স-রে পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক। কোথাও টেকনিশিয়ান না থাকলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
