বৃক্ষমানব কামালের জীবনযুদ্ধ
হাঁটতে পারেন না তবুও গাছ বেয়ে চলে জীবিকা
Advertisement
ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কটিয়াদীর প্রতিবন্ধী কামাল হোসেনের জন্ম থেকেই দুই পা অচল। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। অন্যের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটানোর কথা থাকলেও প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সেই হাতে তুলে নেন দা ও দড়ি। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। এখনো মানুষের বাড়ি-বাগানে গাছ ছাঁটাই করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। কামাল হোসেন জীবনযুদ্ধে এক অদম্য সাহসী সৈনিক। তার হার না মানা সংগ্রামী জীবনের দৃষ্টান্ত অনেক বেকার যুবকের অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে নজির স্থাপন করেছে। কামাল হোসেন উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া খাঁ বাড়ির আব্দুল হেকিম খাঁর ছেলে। কামালের জীবন যেন অসহায়ত্বের কাছে আত্মসমর্পণ না করার এক নীরব গল্প। দুই পা অচল হলেও থেমে নেই তার জীবনযুদ্ধ। তিন দশক ধরে গাছের ডালে ডালে জীবিকার সন্ধান করা এ মানুষটির এখন একটাই চাওয়া—ভিক্ষা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার নিয়ে বাঁচার মতো একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান। জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কামালের চলার পথকে থামাতে পারেনি। প্রতিদিন একটি দা, প্রায় ৪০ ফুট লম্বা দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে ছুটে চলেন মানুষের বাড়ি বাড়ি। গাছে উঠে ডাল-পালা ছাঁটাই করেন। কাজ মিললে দিনে আয় হয় ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিদিন কাজ থাকে না। ফলে অনিশ্চিত এ আয় দিয়েই বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, স্ত্রী-সন্তানের খাবার, পোশাক ও পড়াশোনার খরচ চালাতে হচ্ছে তাকে। কামালের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন কামাল। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিক কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাননি তিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেই থেকে টানা প্রায় ৩০ বছর ধরে একই কাজ করে আসছেন। কামালের স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিবন্ধী হলেও কারও কাছে হাত পাততে চান না। দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য গাছে উঠা ও কাজ করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনোভাবে সংসারটা চালাতে পারতাম।’
