বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
মামা-ভাগনের নিয়োগ বাণিজ্য
Advertisement
উত্তম কুমার সেনগুপ্ত লক্ষন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উলিপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে ৫টি পদে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার তৎপরতায় স্থানীয়দের প্রতিবাদে নিয়োগ কমিটি মাদ্রাসা ত্যাগ করে অদূরে এক ইটভাটার অফিসে দীর্ঘ বৈঠক করে। ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায়।
জানা গেছে, হাতিয়ার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শনিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধিসহ কয়েকজন উপস্থিত হন। এর কিছু পর চাকরি প্রার্থী কয়েকজন মাদ্রাসায় আসেন। বন্ধের দিন হঠাৎ করে সেখানে লোকজনের উপস্থিতি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চান। অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদিন বলেন, ‘মাদ্রাসায় ৫ জনের নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হবে। ৩ জন ল্যাব সহকারী, ১ জন অফিস সহায়ক ও ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে। এ কারণে নিয়োগ কমিটি চাকরি প্রার্থীর পরীক্ষা ও ভাইভা নেওয়ার জন্য এসেছেন।’ অধ্যক্ষের কথায় স্থানীয়রা জানতে পারেন মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে নিয়োগ কমিটি ও নিয়োগ প্রত্যাশীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে কয়েক কি.মি দূরে ধামশ্রেণির সাতকুড়া ইটভাটার অফিসে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হন। এভাবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে নিয়োগ কমিটির নাটক। এরপর ঘোষণা দেওয়া হয় ৫ জনকে নিয়োগের। এ সময় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা পৌঁছলে তাদের দেখে নিয়োগ কমিটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এলাকাবাসী আব্দুল জব্বার, ইয়াছিন আরাফাত, রাকিব হাসান, কামরুল হাসান, সাগর মিয়াসহ অনেকে বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষ গোপনে সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে ৩ জন ল্যাব সহকারীর কাছে ৭৫ লাখ, ১ জন অফিস সহায়ক ও ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। এভাবে ৫ জন নিয়োগ প্রত্যাশীর কাছে ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে তারা লুকোচুরি করে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পুনরায় বহুল প্রচারিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুনভাবে প্রকাশ্যে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি করেন তারা। মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য নুরুন্নবী বাসার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। পূর্বেও তিনজনকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অধ্যক্ষ ও সভাপতি মামা-ভাগিনা হওয়ায় কমিটির অন্য সদস্যদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করে তারা সব কাজ করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা মোবাশ্বের রাশেদিন জানান, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৭ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ৫ জনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে ও ইটভাটায় বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। স্থানীয়রা ঝামেলা করায় ইটভাটায় বসে আলোচনা করা হয়েছে। মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা আব্দুল মমিন আনছারী মুঠোফোনে বলেন, কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে কথা কাটাকাটি হওয়ার কারণে ফেরার পথে ইটভাটায় বসে সমন্বয় করা হয়েছে। কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও ডিজির প্রতিনিধি শামিউল ইসলাম প্রামানিক মুঠোফোনে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ৫টি পদের বিপরীতে ২২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এদের মাঝে ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ইটভাটায় বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেরার পথে স্থানীয় পরিচিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে ওই ইটভাটায় গিয়েছিলাম এর বেশি কিছু না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা) সাজ্জাদ হোসেন জানান, মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে আমরা অবগত নই।
