বোয়ালমারী পৌরসভা
কাজ নেই তাই বসে বেতন নিচ্ছেন ১৮ কর্মচারী
Advertisement
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বোয়ালমারী পৌরসভা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের চাপে নাজেহাল। মোট ৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কাজ না করেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বোয়ালমারী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর প্রায় দুই দশক প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল দিয়েই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২২ সালে তৎকালীন সরকারদলীয় মেয়র সেলিম রেজার আমলে রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একযোগে ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই পৌরসভার জনবল ও ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিন ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদ যেমন-বাজার পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, কার্য সহকারী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও ট্রাকচালক পদে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি জনবল রয়েছে। বর্তমানে পৌরসভায় কোনো সচল পানির পাম্প বা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। অথচ হাবিবুল্লাহ হাবিব নামে একজন পাম্পচালক ও মুরাদ নামে একজন পাইপলাইন মেকানিক নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এমনকি পানি সরবরাহ না থাকলেও পানির বিল আদায়ের জন্য একজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে রোলার ও টিকাদান কার্যক্রমেও। বছরে মাত্র দু-একবার রোলার ব্যবহার করা হলেও মিজানুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজন চালক প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন তুলছেন। এছাড়া পৌরসভায় টিকাদানকারী পদে দুজন এবং সুপারভাইজার পদে একজন কর্মরত থাকলেও পৌরবাসী তাদের মাধ্যমে কোনো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখেননি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সিকদার মনিরুজ্জামান কাজ না করে বেতন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট কাজ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পৌরসভার অন্যান্য দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কেউ বসে বেতন নিচ্ছেন না।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এসএম রকিবুল হাসান জানান, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায়ই শূন্য পদগুলোতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিছু প্রকল্প রয়েছে যেগুলোতে আপাতত কাজ বন্ধ আছে। তবে কোনো কর্মচারীরই বসে বসে বেতন নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা তাদের বিভিন্ন বিকল্প প্রকল্পে ব্যবহার করছি।
