জরুরি চিঠি বিলি হয় হাটের দিন
Advertisement
সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলা সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার শাখা ডাকঘরগুলো জনসাধারণের খুব বেশি কাজে আসছে না। অধিকাংশ ডাকঘর কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম। এ কারণে কোনো কোনো পোস্ট অফিসে আসা চিঠিপত্র বিলি হয় স্থানীয় হাটের দিনে। এলাকাবাসী জানান, অধিকাংশ ডাকঘরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। যেসব ডাকঘর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সম্পৃক্ত সেগুলোর নাম জানা গেলেও অন্যসব চলে হাওয়ার ওপর। সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলায় যে শাখা ডাকঘরটি রয়েছে সেটির কোনো চিহ্ন নেই। পোস্টমাস্টার বসে বসে চার হাজার টাকা বেতন নিলেও তিনি অন্য ব্যবসা করেন। পোস্টমাস্টারি পেশাকে ধরে রেখে বাড়িতে বসে কাজ চালান। কোনো চিঠিপত্র বা জরুরি পত্র এলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সে কারণে এলাকার লোকজন মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে তাদের চিঠি বা জরুরি পত্রাদির খবর নিয়ে থাকেন। অনেকের মানি অর্ডার এলেও মাসের পর মাস তিনি ফেলে রেখে দেন বাড়িতে। তারপর কেউ খোঁজ করলে কয়েকদিন ঘুরিয়ে তারপর মানি অর্ডারের টাকা কিস্তিতে দেন। অন্যদিকে পলাশবাড়ির মনোহরপুর ইউনিয়নের হালিমনগর গ্রামে একটি মুদি দোকানে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পোস্ট অফিসের কোনো সাইনবোর্ড নেই। কিন্তু মাসে মাসে তার বেতন আসে ঠিকভাবে। তার মুদি দোকানে বসে চিঠি আদান-প্রদান করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দূর-দূরান্ত অথবা বিদেশ থেকে জরুরি চিঠি এলে তিনি দোকানে মজুত করে রাখেন। তারপর হাটবারের দিন কেউ এসে খোঁজ করলে তার চিঠি দিয়ে দেন। গোবিন্দগঞ্জের কালিতলায় চায়ের দোকানে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে। কারো চিঠিপত্র এলে তিনি দোকানের কাস্টমারদের দিয়ে তাকে খবর দেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাজারপাড়া পোস্ট অফিসের নাম কেউ জানেন না। পোস্টমাস্টার তার বাড়িতে বসে থাকেন। মাসের শেষে বেতন নিলেও কারো চিঠিপত্র প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেন না তিনি। গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর বাজারের একটি ওষুধের দোকানে পোস্ট অফিসের ছোট সাইনবোর্ড আছে। এ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মূলত ওষুধের দোকানি। পাশাপাশি দোকানে বসে পোস্টমাস্টারের চাকরি করে মাসে চার হাজার টাকা বেতন নেন।
