রায়পুরে পোস্ট অফিস থাকলেও নেই কার্যক্রম
Advertisement
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোনো ব্যক্তি যখন প্রিয় মানুষের ঠিকানা লিখতে হয়, সেখানে ওই ব্যক্তির পোস্ট অফিসের নাম উল্লেখ করতে হয়। পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই সেই ব্যক্তি তার সঠিক ও নির্ভুল ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়। ওই ঠিকানা অনুযায়ী চিঠিপত্র বা কোনো ডাক এসে থাকে। মূলত পোস্ট অফিসের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়। যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ব্যক্তির ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়, সে পোস্ট অফিস বা ডাকঘরের ঠিকানা কোথায়? জেলা-উপজেলার প্রতিটা গ্রাম বা ইউপিতে একাধিক পোস্ট অফিস রয়েছে। এলাকার নামানুসারে পোস্ট অফিস নামকরণ।
শুধু এলাকার নাম অনুসারে ‘পোস্ট অফিস’ নাম ব্যবহার করা হয়। স্বাধীনতার পর দেশে ডাক বিভাগের প্রচলন শুরু হওয়ার পর গ্রামগঞ্জে অবকাঠামোগত অফিস ছাড়াই এলাকাভিত্তিক পোস্ট অফিস নাম দেওয়া হয়। প্রযুক্তির প্রভাবে এক সময়ের কর্মচঞ্চল ডাক বিভাগের কার্যক্রম বদলে গেলেও সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার চিঠি ও কাগজপত্র আদানপ্রদান হয় ডাক বিভাগের মাধ্যমে।
রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুরে উপজেলা-জেলা কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে চিঠিপত্র, পার্সেল বা পোস্ট অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে অফিস রয়েছে। কিন্তু গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ের লোকজন নিজেদের ঠিকানায় যে পোস্ট অফিসের নাম দেন, তাতে পোস্ট অফিসের কোনো অস্তিত্বই নেই। রায়পুর পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার হরি কমল সরকারের ওষুধের দোকান। গত ৪০ বছর ডাকঘরটি তিনি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ওষুধের ব্যবসাও করছেন। গত ২০ বছর ‘চিঠি আসে ও যায়ও না’ জানান তিনি। মানুষ এখন আর চিঠি না লিখে মোবাইলে ও ফেসবুকে ম্যাসেজ বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। রায়পুর উপজেলায় রায়পুর পোস্ট অফিস, রাখালিয়া বাজার পোস্ট অফিস, নাগের দিঘির পাড় পোস্ট অফিস, হায়দরগঞ্জ পোস্ট অফিস ও কেরোয়া ইউপির ভুইয়া বাড়ি পোস্ট অফিস ও উত্তর চরবংশি ইউপির খাসেরহাটসহ মোট ৬টি পোস্ট অফিসের ঠিকানা ব্যবহার হয়। শুধু রায়পুর পোস্ট অফিস এর অস্তিত্ব আছে, যেটি উপজেলা পোস্ট অফিস। কিন্তু বাকি ৫টি পোস্ট অফিসের অস্তিত্ব থাকলেও কোনো কার্যক্রম নেই। ইউনিয়নের বাসিন্দা তাদের ঠিকানায় ওই ৫টি ‘অদৃশ্য’ পোস্ট অফিসের নাম যুগ যুগ ধরে উল্লেখ করে আসছেন।
অফিস নেই, কিন্তু কীভাবে চলে এসব পোস্ট অফিসের কার্যক্রম- তা দেখতে সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, ‘রাখালিয়া পোস্ট অফিসে’র নাম আছে কিন্তু বাস্তবে পোস্ট অফিস নেই। এই পোস্ট অফিসের আওতায় একজন পোস্ট মাস্টার, একজন পিয়ন ও একজন রানার কাজ করেন। রাখালিয়া বাজারে ওই পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন মামুন হোসেন অবকাঠামোগত অফিস না থাকার বিষয়ে বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এ পোস্ট অফিসের পিয়ন হিসাবে চাকরি করেন। অবকাঠামো থাকলেও তেমন কাজ নেই। বামনী ইউপির কাঞ্চনপুর ডাকঘরের পিয়ন আলমগীর হোসেন বলেন, অবকাঠামো থাকলেও তা এখন তালাবদ্ধ। কয়েক বছর ধরে একটি স্কুল অফিস কক্ষে প্রতিদিনকার কার্যক্রম চালাই। একটি স্থায়ী অফিসের জন্য আমি জেলা কার্যালয়ের মিটিংয়ে বলেছি। কিন্তু কোনো দাতা জমি দান না করায় আজও স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন সম্ভব হয়নি।
কেরোয়া ইউনিয়নের ভুইয়া বাড়ী পোস্ট অফিসের কার্যক্রমও চলে স্থানীয় পোস্ট মাস্টারের ব্যক্তিগত দোকানে। শুধু যে কেরোয়া, বামনী ও সোনাপুর ইউনিয়নের অবস্থা এমন- তা কিন্তু নয়। জেলার ডাক বিভাগ সদর, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। রামগঞ্জ এবং সদরের চন্দ্রগঞ্জ এলাকা পরিচালিত হয় নোয়াখালী ডাক বিভাগ থেকে। সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর ডাক বিভাগের আওতাধীন একটি জেলা অফিস, দুটি উপজেলা ডাকঘর, ১০টি উপ-ডাকঘর ও ৫২টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। প্রতিটি সাবপোস্ট অফিসে একজন ইডিএ (পোস্ট মাস্টার), একজন ইডিডিএ (পিয়ন) ও একজন ইডিএমসি (রানার) নিযুক্ত রয়েছে। একইভাবে শাখা পোস্ট অফিসগুলোতেও ওই সব পদের তিনজন করে লোক কাজ করেন। তবে শাখা পোস্ট অফিসের কেউই নিয়মিত বেতনভুক্ত নন। সবাই মাস্টাররোলে নামমাত্র সম্মানিতে কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার পোস্ট অফিস ইন্সপেক্টর অমল কৃষ্ণ দাশ বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী যেসব এলাকায় স্থানীয় দাতা গোষ্ঠী জমি দান করেছেন, সেসব জায়গায় শাখা পোস্ট অফিস বাস্তবে রয়েছে। আর যেখানে জমি অনুদান পাওয়া যায়নি সেখানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা অন্য কোনো আশ্রয়ে পোস্ট অফিসের কাজ চালানো হয়। কোনো এলাকায় জমি অনুদান পেলেই অফিস ঘর করে দেওয়া হবে।
