চা স্টল, ওষুধের দোকানে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম
বড়াইগ্রামে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পোস্টমাস্টারের মাথায়
Advertisement
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বড়াইগ্রামে নিজস্ব ভবন না থাকায় পৌরসভার পরিত্যক্ত ভগ্নপ্রায় ভবন, ওষুধের দোকান, চায়ের স্টল অথবা পোস্টমাস্টারের বসতবাড়িতে চলছে অধিকাংশ ডাকঘরের কার্যক্রম। এসব কারণে ডাক কর্মচারীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হন, তেমনি গ্রাহকদেরও প্রতিনিয়তই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। জানা যায়, উপজেলায় একটি সরকারি ও ১১টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। এছাড়া চাটমোহরের আওতায় জোনাইল ও রামেশ্বরপুরে আরও দুটি শাখা ডাকঘর আছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটির নিজস্ব ভবন আছে। অন্যগুলোর নিজস্ব ভবন নেই। বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার লক্ষ্মীকোল ডাকঘরটি চলে বড়াইগ্রাম পৌরসভার পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনে। ভবনটি একেবারে ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ায় দেওয়ালের একাধিক জায়গায় বড় ফাটলসহ ভাঙনের চিহ্ন রয়েছে। মাঝে মাঝেই ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। দু-একবার এসব পলেস্তরা কাজে ব্যস্ত থাকা পোস্টমাস্টার ও ডাকপিয়নের মাথার উপরেও খসে পড়েছে বলে জানা গেছে। ঘরটির বেশির ভাগ জানালাই ভাঙাচোরা। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানেই পোস্ট অফিসের কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া লক্ষীচামারী ডাকঘরটির কার্যক্রম চলে এক কিলোমিটার দূরে মেরিগাছা বাজারে পোস্টমাস্টার আলালউদ্দিনের ওষুধের দোকানে। ডাকঘরের সাইনবোর্ডটি দোকানের একপাশে আর ডাকবাক্সটি দোকানের সামনে বটগাছের সঙ্গে সাঁটানো। জমি না পাওয়ায় ইতোপূর্বে একাধিকবার বরাদ্দ এলেও ফেরত গেছে বলে জানান পোস্টমাস্টার। অপরদিকে, রামেশ্বরপুর ডাকঘরটি চলছে পোস্টমাস্টারের বসতবাড়ির একটি ঘরে। ইতোপূর্বে রামেশ্বরপুর বাজারের একটি চায়ের স্টলই ছিল এ ডাকঘরের ঠিকানা। সবাই সেখানে এসেই চিঠিপত্র লেনদেন করতেন। বর্তমানে পোস্টমাস্টারের বাড়ির বৈঠকখানায় এ ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে। এছাড়া রামাগাড়ি, জোয়াড়ি, নওপাড়া, বৃ-পাথুরিয়া ডাকঘরের অবস্থাও একই। এ ব্যাপারে উপজেলা পোস্টমাস্টার শামীমা খাতুন জানান, জায়গা না পাওয়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে এখনও বেশ কিছু ডাকঘরের নিজস্ব ভবন হয়নি। এতে গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
