প্রেমপত্র নয়, আসে তালাকনামা
Advertisement
মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পথঘাটবিহীন, ঝোপ-জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া গেল গৌরীপুরের অধিকাংশ শাখা ডাকঘর। নির্ধারিত সময়ে কেউ দরজায় কড়া নাড়ছেন না। সব ডাকঘরেই ঝুলছে তালা। জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় যিনি পোস্ট মাস্টার তাদের দেওয়া ভূমিতে গুরুত্ববিহীন ও সাধারণ মানুষ চলাচলের অনুপযোগী স্থানে এসব পোস্ট অফিস কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে এসব পোস্ট অফিসে শুধু আসে সরকারি-বেসরকারি নিয়োগপত্র, মামলা সংক্রান্ত চিঠিপত্র। কোনো পোস্ট অফিসে বছরে একটি প্রেমপত্রও আসার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যেকটি পোস্ট অফিসে প্রতি মাসে ১২ থেকে ২০টি তালাকপত্র আসার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিন, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ভূটিয়ারকোনা ডাকঘরটি খোঁজে পাওয়া গেল এক জঙ্গলের ভেতরে। অথচ পাশে উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও এ ডাকঘরের কোনো রাস্তা নেই। এলাকাবাসী জানায়, পোস্ট মাস্টার কবে এসেছেন, তারা কেউ দেখে জানাই। পোস্ট অফিসের দরজায় আগাছার আখড়া, সামনে গোচারণ ভূমি হওয়ায় আছে গোবর আর আবর্জনা। এ ইউনিয়নের আরেকটি ডাকঘর কিল্লাতাজপুর। বাজার বা জনগণের কথা বিবেচনা না করে পোস্ট মাস্টারের দেওয়া ভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। অনুরূপ অবস্থা দেখে গেছে অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া, মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়া ও ভবানীপুর। রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুরের জমিদার এ পোস্ট অফিসের শাখা চালু করেন। তবে একটি নির্ধারিত স্থানে নেই। বোকাইনগর ইউনিয়নে স্থানান্তর হলেও এলাকাবাসী এ নামের ডাকঘর চেনেন না। রামগোপালপুর, পাছারবাজার, শাহগঞ্জ ও বীরআহাম্মদপুর ডাকঘরেও গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
পাছার পোস্টার মাস্টার মো. আতাউর রহমান জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ ডাকঘরে আছেন। এক সময় খুব কদর ছিল। গ্রামের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে বকশিসও পাওয়া যেতো। চিঠি পেয়েই দৌড় মারতো। সেই দিন এখন আর নেই। মোবাইল এসে এসব শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানান, গত মাসে ১৪টি তালাকনামা এসেছে। আদালতের চিঠি এসেছে, এনজিও চিঠি এসেছে। কিন্তু গত ২-৩ বছরের ভেতরে একটি প্রেমপত্র আসেনি।
