মায়ের অনুপ্রেরণায় নাচেই অর্হার সাফল্য
Advertisement
মনিকা চৌধুরী, বরিশাল
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শুরুটা হয়েছিল মায়ের হাত ধরে। বয়স তখন সবেমাত্র চার বছর। নাচ শেখার প্রতি নিজের তেমন আগ্রহ ছিল না। মায়ের অনুপ্রেরণায় নাচের ক্লাসে যাওয়া। সেই শুরু, এরপর আর থেমে থাকেনি পথচলা। সময়ের সঙ্গে নাচের প্রতি তৈরি হয়েছে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করছে বরিশালের মেয়ে অর্হা চৌধুরী যশো। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে অর্হা। নাচের মধ্য দিয়ে তুলে ধরছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। একসময় মায়ের ইচ্ছায় নাচ শিখতে যাওয়া অর্হা এখন নাচকেই নিজের ভালো লাগা ও সাধনার জায়গা করে নিয়েছে। বরিশালেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা অর্হার। বাবা চিকিৎসক ডা. অপূর্ব কুমার চৌধুরী, মা ডা. বর্ণালী দেবনাথ। পড়াশোনায়ও মেধাবী অর্হা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নাচের চর্চাও চালিয়ে যাচ্ছে সে।
অর্হার নাচের ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি। ২০২৩ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে তৃতীয় পুরস্কার পায়। ছোটবেলা থেকে নিয়মিত চর্চা আর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে অর্জিত এসব স্বীকৃতি তার পথচলাকে আরও এগিয়ে নিয়েছে। অর্হা বলে, চার বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে নাচ শিখতে শুরু করি। শুরুতে নাচের প্রতি নিজের তেমন আগ্রহ ছিল না। মা আমাকে উৎসাহ দিতেন। ধীরে ধীরে নাচের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। এখন নাচ আমার ভালোলাগার জায়গা। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য অনেক আনন্দের। বিদেশের মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পেরেও ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো নাচ শিখতে চাই এবং দেশের সংস্কৃতিকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে চাই।
শুধু দেশের মঞ্চেই নয়, দেশের বাইরেও নাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে অর্হা। ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে এবং চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয় সে। বিদেশের মঞ্চে বাংলাদেশের নৃত্য ও ঐতিহ্য উপস্থাপন করা তার জন্য ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। নাচের মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষের কাছে নিজের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার আনন্দও আলাদা।
অর্হার মা ডা. বর্ণালী দেবনাথ বলেন, আমি যেটি পারিনি আমি চেয়েছিলাম আমার মেয়ে সেটি করুক। ও নাচ শিখুক এবং আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হোক। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাওয়া এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারা আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের।
অর্হার নৃত্যগুরু মুরাদ বলেন, নাচে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য ও নিষ্ঠা প্রয়োজন। অর্হা নাচের প্রতি আগ্রহ নিয়ে চর্চা করছে। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন তার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। বর্তমানে অর্হা শিখছে কত্থক নৃত্য। লোকনৃত্যের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় নৃত্যের এই চর্চা তার নৃত্যজগৎকে আরও সমৃদ্ধ করছে। নতুন নৃত্যশৈলী শেখার মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে চায় সে।
