বিডিএস ডিগ্রি নেই তবু দন্ত চিকিৎসক!
রাঙ্গুনিয়ায় ডেন্টিস্ট পরিচয়ে ২৫ টেকনিশিয়ানের চেম্বার
Advertisement
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডেন্টাল চিকিৎসক বা ডেন্টিস্ট পরিচয়ে চেম্বার পরিচালনা করে দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রায় ২৫ জন ডেন্টাল টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, তাদের অনেকেরই ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বৈধ নিবন্ধন নেই। এ অবস্থায় তাদের চিকিৎসাসেবার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ কোর্স, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ডেন্টাল চিকিৎসক পরিচয়ে চেম্বার পরিচালনা করছেন। এসব চেম্বারে দাঁত তোলা, ফিলিং, রুট ক্যানেল, সার্জারি ও প্রেসক্রিপশন দেওয়ার মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চন্দ্রঘোনা, রোয়াজারহাট, মরিয়মনগর চৌমুহনী, উত্তর রাঙ্গুনিয়া, শান্তিরহাট, পদুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের চেম্বার রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেক রোগী চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নিবন্ধন যাচাই করেন না। এতে অযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বলছেন, ডেন্টাল টেকনিশিয়ান ও ডেন্টাল সার্জনের কাজ ও যোগ্যতা এক নয়। ডেন্টাল টেকনিশিয়ানরা সাধারণত দন্ত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি ও ল্যাবরেটরির কাজ করেন। অন্যদিকে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা, প্রেসক্রিপশন এবং রোগীর মুখে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রয়োজন। তাই টেকনিশিয়ান হিসাবে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা থাকলেই স্বাধীনভাবে রোগী দেখার বৈধতা তৈরি হয় না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জয়নাব জমিলা বলেন, ডেন্টাল চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন। রাঙ্গুনিয়ায় ডেন্টাল টেকনিশিয়ানদের চেম্বার পরিচালনা ও রোগী দেখার বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, উপজেলার ডেন্টাল চেম্বারগুলোতে চিকিৎসকদের বিডিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। তাদের মতে, ভুল রোগ নির্ণয়, অনুপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি কিংবা যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার কারণে রোগীর জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগ তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
