শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম
চিতলমারীতে প্রাথমিকে ১১ জনের মধ্যে ৮ শিক্ষকের ক্ষেত্রে মানা হয়নি কোনো নিয়ম * একমাত্র শিক্ষককে বদলি করায় শিক্ষকশূন্য এক বিদ্যালয়
Advertisement
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা বদলিতে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে বদলির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় ১১ শিক্ষকের বদলির আদেশের মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এতে কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, আবার কোনোটি শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ উপজেলার শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা বদলির জন্য আবেদন করেন ২৮ জন। যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১১ জনকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী যে বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক আছেন, সেখান থেকে বদলি করা যাবে না। জানা যায়, চারটি পদ থাকা গৌড়মোহনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক মো. নুর আলমকে রাজারভিটা বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টি শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। মো. বাবলু মিয়াকে নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাণীগঞ্জ মদনমোহন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আট পদের ওই বিদ্যালয়টিতে এ বদলির পর এখন শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। মো. জোনাব আলীকে খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চর পাত্রখাতা উত্তরপাড়া বিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে মাত্র দুই নারী শিক্ষক আছেন। মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকের মধ্যে মাসুমা আক্তারকে বদলি করে মুদাফৎথানা বিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। মনোয়ারুল ইসলামকে ছালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বদলি করে ডাঙ্গার চর বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে আছেন তিনজন শিক্ষক। মোবারক হোসেনকে উত্তর খাওরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া বিদ্যালয়ে আনা হয়েছে। এখন সেখানে দুজন শিক্ষক আছেন, যার একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে। তামান্না ইসলাম তৃষাকে নাওশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফকিরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কর্মরত তিনজনের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে একজনকে বদলি করা হয়। মহসিনা খাতুনকে ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নিয়ম না মেনে সোনারীপাড়া বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
চর মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়ারা খাতুন বলেন, বদলি প্রক্রিয়ায় নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। শিক্ষক নেতাদের যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, কে কোথায় আর্থিক লেনদেন করেছেন বিষয়টি আমার জানা নেই। প্রতিষ্ঠান শূন্য রেখে বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষক যোগদান না করা পর্যন্ত ওই শিক্ষক ওখানেই থাকবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান শূন্য রেখে বদলির নিয়ম নেই। শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
