পরিত্যক্ত হাজতখানায় সাবরেজিস্ট্রি অফিস
Advertisement
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরের মনিরামপুরে আশির দশকে নির্মিত জজ আদালতের পরিত্যক্ত ভবনের জীর্ণশীর্ণ হাজতখানায় চলছে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। জরাজীর্ণ ভবনটির ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় ভিজে যাচ্ছে জমিজমা নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও বালামবই। পলিথিন দিয়ে ঢেকে এসব নথি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ অধ্যাদেশ জারির পর উপজেলা পর্যায়ে জজ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এতে বিচারকদের কক্ষ, এজলাস ও হাজতখানা ছিল। ১৯৯১ সালে আদালত জেলা সদরে স্থানান্তরিত হলে ভবনটি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকে। একপর্যায়ে আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরিণত হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলত। ১৯৯৪ সালে ওই ভবনের একাংশ ধসে পড়লে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পুরোনো জজ আদালতের কক্ষগুলো পরিষ্কার করে সেখানে অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে এর পর থেকে ভবনটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা মেরামত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ভবনসংক্রান্ত জটিলতায় বিকল্প জায়গা না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সী জানান, নিজস্ব অফিস ভবনের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ নথি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার আবারও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।
