গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগ
জনপ্রতি ২০ লাখ টাকা বাণিজ্যে
অভিযোগ কৃষকদল সভাপতির
Advertisement
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গৌরীপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোমবার গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়নে সংবাদ সম্মেলন করেন মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর ও পৌর কৃষকদলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রত্যেকটি সার ডিলার নিয়োগে ১৫-২০ লাখ টাকার অলিখিত বাণিজ্য হয়েছে। তিনি লটারির মাধ্যমে প্রথমস্থান অর্জন করার পরেও তাকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়নি। শুধু তিনি নন, লটারিতে যারা বিজয়ী হয়েছিল, সবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রত্যেকটি ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও একটি চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অলিখিত চুক্তির গুঞ্জন রয়েছে। এতে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মী ও ব্যবসায়িকরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ চক্রের অসাধু উপায়ের কারণে বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ সংবাদ সম্মেলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন গৌরীপুর ইউনিয়নে লটারি প্রথম হয়েও বঞ্চিত মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের মো. নুরুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ফজলুল আল আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী বাচ্চু প্রমুখ।
অপরদিকে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের ডিলারশিপের তালিকা বাতিলের দাবিতে কৃষিমন্ত্রী বরাবরে রোববার আবেদন করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। এ আবেদন করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহমান বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আলী আকবর আনিছ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. রমজান হোসেন খান জুয়েল। এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, শাহী মুন্সী দলের নিবেদিতকর্মী।
এদিকে ৯ অক্টোবর বিকালে এ তালিকা প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বিসিআইসি সার ডিলারশিপ বঞ্চিতদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাওছার আহম্মদ খান জানান, ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৪১ জন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরে ৩৩ জনের নামের তালিকা প্রেরণ করা হয়। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাইকৃত ডিলারদের নামের তালিকা অনুযায়ী লটারির শেষ পর্যায়ে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়। এরপরে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিলারদের নামের তালিকা করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ নেই।
