মঠবাড়িয়ায় কোটি টাকার ডাস্টবিন অকেজো
শহরে ছড়াচ্ছে আবর্জনা
Advertisement
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ২৬১টি স্টেইনলেস ডাস্টবিনের অনেকগুলোই এখন অকেজো হয়ে পড়েছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় ডাস্টবিনের চারপাশে জমছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও কোথাও ডাস্টবিন ছাড়িয়ে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বর্জ্য। এতে শহরের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট ও ২৬১টি স্টেইনলেস ওয়েস্টবিন (ডাস্টবিন) স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ ১৮ হাজার ৪১০ টাকা এবং ডাস্টবিন স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৯ টাকা। প্রকল্পের এসব কাজ বাস্তবায়ন করেছে মঠবাড়িয়া পৌরসভা। সরেজমিন পৌর শহরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু ডাস্টবিন ময়লায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন বর্জ্য অপসারণ না করায় অনেক ডাস্টবিনের আশপাশে ময়লার স্তূপ জমেছে। কোথাও আবার ডাস্টবিনের বাইরে সড়ক ও আশপাশের স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। শহরের প্রাণকেন্দে র একটি প্রবহমান খালেও ময়লা-আবর্জনা ফেলতে দেখা গেছে। এতে খালের পানি ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাগরিকদের বর্জ্য ফেলার সুবিধার্থে ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও সেগুলো থেকে নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে ডাস্টবিনগুলো দ্রুত ময়লায় ভরে যাচ্ছে এবং একপর্যায়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ছোট আকারের ডাস্টবিন দিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তারা। পৌরবাসীর দাবি, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বড় আকারের ডাস্টবিন স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত ডাস্টবিনগুলো নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ডাস্টবিনগুলো কবে স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। কোনো ডাস্টবিন নষ্ট হয়ে থাকলে কিংবা সেখানে ময়লা জমে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। তবে জনবল সঙ্কটের কারণে সব এলাকায় নিয়মিতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
