গাইবান্ধায় পাউবোর কোয়ার্টার মেরামত
কাজ না করেই দেড় কোটি টাকা লোপাট
Advertisement
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিস ও কোয়ার্টার এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কার, রং করা ও বাউন্ডারি ওয়াল মেরামতের নামে এক কোটি ৫৩ লাখ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। কোনো কাজ না করেই বছর বছর ভুয়া ভাউচার দাখিল করে গত পাঁচ বছরে নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক এ টাকা পকেটে ভরে বদলি হয়ে রংপুর এসি অফিসে যোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, বছর বছর ভাউচার দিয়ে টাকা তুললেও কোয়ার্টার মেরামত তো দূরের কথা জঙ্গল পরিষ্কারও করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারপাশে দেওয়াল থাকলেও চেহারা দেখলেই বোঝা যায় এর করুণ অবস্থা। স্টাফ কোয়ার্টারগুলোর দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। ঘরের চালের টিন জং ধরে খুলে পড়ছে। হেলে পড়েছে চারপাশের সীমানাপ্রাচীর। কোয়ার্টারের ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। বর্ষায় পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘরের এক কোণে বসে থাকতে হয় বাসিন্দার। মেঝেতে গর্ত ও খানাখন্দ। পোকা-মাকড়ের বসতবাড়ি। আর ঘর থেকে বের হলেই নজরে পড়বে জঙ্গল। কোয়ার্টারের চারপাশে ঝাড়-জঙ্গলে ভরা। রাত হলে অন্ধকারে ডুবে থাকে গোটা কোয়ার্টার এলাকা। টিনের চালা খুলে মাটিতে পড়ছে এ দৃশ্যও কম নয়। বছরের পর বছর কোয়ার্টার এবং সীমানাপ্রাচীর রং না করায় দেওয়ালের অবস্থা খুবই বেহাল। কোয়ার্টারের ভেতরের অবস্থা আরও খারাপ। শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন ভালো থাকলেও গার্ডরুম দেখলে মনে হয় যেন লাশকাটা ঘর। এ অবস্থা তুলে ধরে তৎকালীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোয়ার্টার মেরামতের নামে চার লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ, একই কাজ দেখিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ লাখ, আবার ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার, দেওয়াল রংসহ দপ্তর মেরামতের নামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফের ২০ লাখ ৪৯ হাজার, রেইনকার্ট মেরামতসহ স্যানিটারি মালামাল স্থাপনের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবারও ২১ লাখ ৭৬ হাজার, একই কাজ দেখিয়ে ফের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবারও রেইনকার্ট মেরামতসহ ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কোয়ার্টারের স্থাপনা মেরামতের নামে ৩১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করেন। এভাবে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোনো কাজ না করেই এক কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকার বিল তুলে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক। এ টাকা তুলে তিনি বদলি নিয়ে রংপুর এসি অফিসে যোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল হক বলেন, ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হলেও এসবের কাজ হয়েছে।
