Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

নিহত সাংবাদিক আলিফের মেয়ের আকুতি

মা তুমি কেঁদো না, বাবা আকাশের তারা হয়েছে

Advertisement

Icon

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

‘মা, তুমি আর কেঁদো না। আমার বাবা আকাশের তারা হয়ে গেছে। কয়েকদিন পরেই আমাদের কাছে চলে আসবে।’ মাত্র চার বছর বয়সের প্রান্থি জানে না, তার বাবা আর কোনো দিন ফিরবে না। বাবাকে হারানোর অর্থ বোঝার বয়সও হয়নি তার। কিন্তু মায়ের চোখের পানি দেখে নিজের মতো করে সে মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। শনিবার বিকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গ্রামের বাড়িতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে কান্না ধরে রাখতে পারেননি নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। যে বয়সে প্রান্থির বাবার কোলে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সে বাবার আদর হারিয়েছে সে। আনন্দিতা বলেন, ‘মেয়ের মুখে এসব কথা শুনলে বুকটা ফেটে যায়। বাবা যে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, তা বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। ওর কথা শুনে আমার কান্না বেড়ে যায়। আমার কী হবে? আমার সন্তানদের কী হবে? আমার মা বিধবা! আমার বড় বোনও বিধবা! ওরা আমাকেও বিধবা করে দিল!’ প্রান্থির ছোট ভাই আইয়ান সাফয়ানের বয়স মাত্র দেড় বছর। বাবার মৃত্যুর অর্থ বোঝার বয়স হয়নি তারও। দুই দিন বাবাকে কাছে না পেয়ে কিছুক্ষণ পরপর কেঁদে উঠছে সে। বাবা ডাকতে শিখেছে, কিন্তু সেই বাবা যে আর কোনো দিন তার ডাকে সাড়া দেবেন না, সেটি বোঝার ক্ষমতা হয়নি শিশুটির। এই দুই শিশুকে নিয়েই এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে আনন্দিতা। স্বামীকে হারানোর শোকের পাশাপাশি দুই সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন এমন চিন্তায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তার। আনন্দিতা বলেন, আমার স্বামী আমার কাছে সুপারম্যান ছিলেন। তাকে কে কীভাবে মূল্যায়ন করত, তা জানি না। তবে তিনি আমার কাছে সবসময়ই সুপারহিরো হয়ে থাকবেন। বিয়ের পর থেকে একটা রাতও আমাকে ছাড়া তিনি থাকতে পারতেন না। প্রতিদিন আমার মুখে ভাত তুলে দিতেন। আমার পড়ালেখার পেছনেও তার অবদান আছে। আমি নার্সিং পাশ করেছি। তিনি আমার চাকরির ব্যবস্থাও করবেন বলেছিলেন। কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেছে।

আলিফের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম ফকির বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আলিফের শাশুড়ি শিলা রাংসা বলেন, আমরা কার কাছে বিচার চাইব? ছোট দুটি বাচ্চা নিয়ে আমার মেয়েটা কীভাবে চলবে? উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ। কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে আলিফ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। অবসরের পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। পরে দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায় আনন্দিতা সাংমাকে বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছিলেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় পাউবোর কোয়ার্টার মেরামত কাজ না করেই দেড় কোটি টাকা লোপাট

কাজ না করেই দেড় কোটি টাকা লোপাট

নিহত সাংবাদিক আলিফের মেয়ের আকুতি মা তুমি কেঁদো না, বাবা আকাশের তারা হয়েছে

মা তুমি কেঁদো না, বাবা আকাশের তারা হয়েছে

মঠবাড়িয়ায় কোটি টাকার ডাস্টবিন অকেজো

মঠবাড়িয়ায় কোটি টাকার ডাস্টবিন অকেজো

সেনবাগে বাজার থেকে ফিরে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ পেলেন মা

সেনবাগে বাজার থেকে ফিরে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ পেলেন মা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম