অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার
নিঃস্ব অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে
রাণীনগরে কারও ভাঙছে সংসার, কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া
Advertisement
সুকুমল কুমার প্রামাণিক, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাণীনগর উপজেলায় অনলাইন জুয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জুয়ার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে টাকা জোগাড় করতে অনেকেই বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে দিন দিন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতন মহল বলছে, জুয়া খেলে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন, আবার কারও সংসার ভাঙছে। ফলে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনে অ্যাপসের মাধ্যমে জুয়া খেলার এ সহজলভ্যতার কারণে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, ব্যাংকার, বেকার যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছেন জুয়ায়। জুয়া খেলায় প্রথম দিকে হঠাৎ দু-একজন কিছু টাকা লাভ করলেও অধিকাংশই সর্বস্বান্ত হয়ে ঋণে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, আবার কেউ ঋণ শোধ করতে না পেরে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের তথ্যমতে, সম্প্রতি উপজেলার আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার তিন কর্মকর্তা অনলাইন জুয়ায় ৭-৮ লাখ টাকা হেরে সর্বস্বান্ত হয়ে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৬ অক্টোবর দুপুরে আবাদপুকুর-আদমদীঘি সড়কের পারইল ব্রিজ এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই করেন। এ ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ জড়িতদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার হরিপুর গ্রামের শ্রীচন্দ্র দাস জানান, জুয়ায় হেরে তার গ্রামের ৪-৫ জন একদম নিঃস্ব হয়ে গেছেন। জুয়ার কারণে দেনার দায়ে আরও দু-তিনজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গোপিনাথপুর গ্রামের মাছ চাষি মোজাহার হোসেন জানান, ‘অনলাইন জুয়া খেলে একবার এক লাখ ২০ হাজার টাকা জিতেছিলাম। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা হেরে যাই। এরপর থেকে আর জুয়া খেলি না।’ কালীগ্রাম ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন বলেন, এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রী অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৫-৬ লাখ হেরে যান। এটা জানার পর তার স্বামী বিদেশ থেকেই স্ত্রীকে তালাক দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে এর মধ্যে একটি অংশ রয়েছে তারা জুয়ায় হেরে অভাবের তাড়নায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। শেষে সংসারই ভেঙে যাচ্ছে। একডালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী বলেন, গ্রাম আদালতে যে অভিযোগগুলো আসে তার মধ্যে জুয়ায় হেরে নিঃস্ব হয়ে সংসারে অশান্তির অহরহ নজির পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার গাড়িচালক অনলাইন জুয়া খেলে হেরে কয়েক দিন আগে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ জুয়া বন্ধ করতে না পারলে অধিকাংশ মানুষই সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে। থানার ওসি মো. জাকারিয়া মণ্ডল জানান, দ্রুতই জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘অনলাইন জুয়া বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
