ছবি দেখে মেয়েরা বলে ‘বাবা আসবে কবে’
Advertisement
পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা)
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২২ সালের ৬ নভেম্বর। রোজার ঈদের বাকি ছিল মাত্র কয়েকদিন। গরু ব্যবসায়ী বোরহান ফকির গরু কেনাবেচা শেষে নসিমন গাড়িযোগে হাট থেকে মেয়েদের জন্য ঈদের জামা-কাপড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বোরহান ফকির। মেয়েদের জন্য কেনা নতুন জামা-কাপড় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এদিকে বাবার কাছ থেকে সেদিন নতুন জামা-কাপড় নেওয়ার জন্য উদগ্রিব হয়েছিল মেয়েরা। স্ত্রী ভাত বেড়ে অপেক্ষায় ছিলেন কখন ফিরবেন স্বামী। কিন্তু বোরহান ফকির বাড়ি ফিরল ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে! সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পর চাটমোহরের ছাইকোলা সড়কপাড়া গ্রামের বোরহান ফকিরের পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। চার মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন বোরহান ফকিরের স্ত্রী মালতী খাতুন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের মৃত্যুতে সংসারে জেঁকে বসে অভাব। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে মালতী খাতুনকে বেছে নিতে হয় দিনমজুরির পেশা। খাবারের অভাবে বাধ্য হয়ে স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ের বাল্যবিয়ে দেন! এখন জরাজীর্ণ টিনের ছাপড়া ঘরে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস মালতী খাতুনের।
বোরহান ফকিরের ইচ্ছে ছিল মেয়েদের পড়ালেখা শিখিয়ে স্বাবলম্বী করবেন। বড় মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। মেজো মেয়েকে হাফেজ বানাবেন। আর ছোট দুই মেয়েকে শিক্ষক বানাবেন। এখনো বাবার পথ চেয়ে থাকে ছোট দুই মেয়ে। আবার কখনো বাবার ছবির ওপর নরম হাতের পরশ বুলিয়ে আদর করে, চুমু খায়। কিন্তু তারা জানে না আর কখনোই ফিরবে না তাদের বাবা বোরহান ফকির। মালতী খাতুন বলেন, স্বামী না থাকলে যে কী হয় একজন বিবাহিত নারী সেটা বোঝে। একজন নারীর জন্য স্বামী তার অলংকার। ছোট দুই মেয়ের মনে নেই তাদের বাবা দেখতে কেমন ছিল। পুরোনো একটা ছবি ছাড়া আমার স্বামীর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ছবি দেখে মেয়েরা শুধু কাঁদে আর বলে, ‘বাবা আসবে কবে’।
