সব স্বপ্ন সঙ্গে নিয়ে পরপারে ইয়াসিন
বাবার পোড়া হাত দুটোর বিশ্রাম দেওয়া হলো না
Advertisement
অনিকেত মাসুদ, বরিশাল
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাবার পোড়া হাত দুটোকে একদিন বিশ্রাম দেবেন-এই স্বপ্ন বুকে নিয়েই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন ইয়াসিন আরাফাত। বাবাকে বলতেন, ‘আমি ভালো কিছু করব, দেখো-আমাদের কষ্ট একদিন থাকবে না।’ কিন্তু পরিবারের অভাব ঘোচানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ২২ বছরের এই তরুণের জীবন। যে মহাসড়ক পেরিয়ে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এসেছিলেন, সেই মহাসড়কেই থেমে গেছে তার পথচলা।
রংপুরের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের কৃষক সুলতান মাহমুদ পাভেলের বড় ছেলে ইয়াসিন। মা আরফিনা আক্তার গৃহিণী। ছোট বোন সুমা আক্তারের বয়স ১৩ বছর। দরিদ্র পরিবারের প্রথম সন্তান হিসাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় ইয়াসিনকে ঘিরেই ছিল সবার আশা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল চাকরি করে বাবার কষ্ট কমাবেন, মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন এবং বোনের ভবিষ্যৎ গড়বেন।
কিন্তু, গত ৯ আগস্ট বিকালে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে থ্রি-হুইলার ও বিআরটিসি বাসের সংঘর্ষে প্রাণ হারান ইয়াসিন। তার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। হৃদরোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত বাবা আগের মতো পরিশ্রমও করতে পারেন না। ছেলের স্মৃতি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়েই কাটছে তাদের দিন। সুলতান মাহমুদ পাভেল বলেন, ইয়াসিন আমাদের সব স্বপ্ন নিয়ে চলে গেছে। ছেলেটা দ্বিতীয় বর্ষে থাকতেই চাকরির পড়াশোনা শুরু করেছিল। বলত, ভালো একটা চাকরি করে আমাদের কষ্ট দূর করবে। কিন্তু তার বেঁচে থাকাটাই হলো না। ইয়াসিনের মৃত্যুর পর নিরাপদ মহাসড়ক দাবিতে আন্দোলন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার মহাসড়ক সংস্কার, ৪০০ মিটার ড্রেন ও প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পেয়েছে ১০ লাখ টাকা। পরিবারের একজনকে বিআরটিসিতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চাকরি পেলেও শারীরিক অসুস্থতায় বাবা সেখানে কাজ করতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আবদুল্লাহ জুবায়ের জানান, এ ঘটনায় আরেকজন নিহতের পরিবারের করা মামলায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইয়াসিনের পরিবার মামলা করেনি।
