মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
এক্স-রে মেশিন অচল রোগীদের দুর্ভোগ
Advertisement
জালাল আহাম্মদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই এখন মারাত্মক সংকটে জর্জরিত। হাসপাতালের প্রবেশপথ ও ফটকেই ওঁৎপেতে থাকে দালালচক্র, আর ভেতরে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক। সাধ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে গিয়ে চরম মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়ছেন তারা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন ধরে আলট্রাসনোগ্রাম করার মতো কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।
একমাত্র এক্স-রে মেশিনটিও বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। রোগীদের জরুরি স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক সংকটে তা প্রায় অচল। এছাড়া সুপেয় পানি ও জেনারেটর সংকটের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এমনকি সরকারি নিয়ম চালুর থাকলেও হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মেসিটি বন্ধ রয়েছে।
হারপাকনা এলাকার আব্দুল জলিল বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন হাসপাতালে এসেও ডাক্তারের সিরিয়াল পাচ্ছি না। যে পরিমাণ রোগী, তাতে ডাক্তাররা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।’
ইয়াছমিন আক্তার (আলগী এলাকা) : ‘সকালে এসে সিরিয়াল দিয়েও ডাক্তার দেখাতে পারি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো দূরের কথা, সরকারি ওষুধও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।’
নাগেরকান্দি এলাকার ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘বাচ্চাকে দেখানোর জন্য পাঁচবার এসেছি। একবার সুযোগ পেলেও কোনো পরীক্ষা করাতে পারিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।’
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে। বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়েই আমরা সাধ্যমতো মানসম্মত সেবা বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
