বদলগাছীতে আবাসন প্রকল্প
মরিচায় ঘরের চাল ফুটো বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ
২৭০ পরিবারের মধ্যে ১৮৫ ঘরে বসতিশূন্য
Advertisement
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বদলগাছীর কোলা ইউনিয়নের পূর্ব বনগ্রামের হাস্তা বিল এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। সংস্কারের অভাবে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে টিনের ব্যারাক, অন্যদিকে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নিরাপত্তার সংকটে একে একে এলাকা ছাড়ছেন বাসিন্দা। ২০১২ সালে পুনর্বাসিত ২৭০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য নির্মিত এ প্রকল্পে বর্তমানে ১৮৫টি ঘর ফাঁকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বর্তমানে মাত্র ৮০ থেকে ৮৫টি পরিবার সেখানে বসবাস করছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়তে পারে। সরেজমিন দেখা যায়, আবাসন প্রকল্পের টিনের ব্যারাকগুলোর অনেকই জং ও মরিচা ধরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেসব পরিবার এখনো সেখানে বসবাস করছে, তাদের ঘরের চাল ও বেড়ার টিনেও দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফুটো। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর গরমের দিনে টিনের তাপে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে জীবনযাপন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনা ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। ব্যারাকে বসবাসরত রফিকুল ইসলাম নিজের ঘরের চালের ফুটো দেখিয়ে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। আবার রোদের দিনে টিনের তাপে ঘরে থাকা যায় না। এভাবে আর কত দিন থাকা সম্ভব, তা জানি না।’ বাসিন্দা সিদ্দিক, খুদু, হামিদ ও লুৎফা বেগম বলেন, ‘আশপাশে তেমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। কাজের সুযোগ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখান থেকে চলে গেছেন।’ আবাসন প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল জব্বার জানান, এখানে শিশুদের পড়াশোনার জন্য কোনো বিদ্যালয় নেই। প্রায় পাঁচ বছর আগে বাসিন্দা নিজেদের চাঁদায় একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। সেটিও এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘রাতে নিরাপত্তার কারণে জানালা খুলে ঘুমানো যায় না। অন্ধকারে দুর্বৃত্ত ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা এসে জানালায় ধাক্কাধাক্কি করে। যাদের গ্রামের বাড়িতে সামান্য মাথা গোঁজার ঠাঁই আছে, তাদের অনেকে এক-দুই রাত থাকার পর ঘরে তালা দিয়ে চলে গেছেন।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী হাস্তা বিল বা জলাশয় এলাকায় আবাসন প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছিল। জলাশয় এলাকায় এমন প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ব্যারাকগুলো সংস্কারের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি সরেজমিন আবাসন প্রকল্পটি পরিদর্শন করব। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যারাকগুলো সংস্কারের জন্য একটি প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠাব। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আবাসন প্রকল্পটি অনেক আগে নির্মিত হয়েছে। এগুলো সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
