কোম্পানীগঞ্জের ৮ ইউনিয়ন
তবুও তারা সারের ডিলার!
কারও কারও নেই গুদাম ও দোকান * প্রবাসী মাটি ব্যবসায়ীও তালিকায়
Advertisement
মো. শরফুদ্দিন শাহীন, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী)
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আটজনকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। আটজনের মধ্যে কারও কারও নেই গুদাম, নেই দোকান, কেউ থাকতেন প্রবাসে, আবার কেউ করেন চট্টগ্রাম শহরে গ্যাসের ব্যবসা। আটজন সার ডিলার যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন, সে নামে এলাকাগুলোতে কোনো দোকান নেই। এমন ব্যক্তিরাই এখন সরকারি খাতায় সারের ডিলার। সরেজমিন এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে চূড়ান্ত করা এ ডিলাররা হলেন-সিরাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগরের হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরী হাট এলাকার সালাম এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু সুফিয়ান। আবু সুফিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কিছুদিন আগে দেশে এসেছেন। তার কোনো সারের দোকান বা গুদাম নেই। চরহাজারী ইউনিয়নের ডিলার মুদি দোকানি নজরুল স্টোরের মালিক নজরুল ইসলাম। তিনি এলাকায় মৌসুমি মাটি ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। তার কোনো সারের দোকান নেই। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকার ফাহিম এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম। তার কোনো সারের দোকান ও গুদাম নেই। চরফকিরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব হাসান মাহমুদ শুভ তার মালিকানাধীন হাসান ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ নিয়েছেন। তারও কোনো সারের দোকান নেই। রামপুর ইউনিয়নের ডিলার হয়েছেন মোবাইল ফোন, কাপড়, জুতা, কসমেটিকস ও হার্ডওয়্যার দোকানদার এনাম ট্রেডার্সের মালিক মো. এনাম। মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপ পেয়েছেন চট্টগ্রামের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক মো. মাহবুব উল্যাহ সায়েম এবং চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা হক অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আমিনুল হক মাসুদ। তারও সারের কোনো দোকান ও গুদাম নেই। অভিযোগ উঠেছে, ওইসব সার ডিলারের নামে কোনো দোকান বা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদে টাকা দিয়ে অধিকাংশই ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে চরপার্বতীর ডিলার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমার দোকান নেই, চাচাতো ভাইয়ের সারের দোকান আছে, ওখানে আমি বসি।’ চরহাজারীর ডিলার নজরুল নিশ্চিত করেন তিনি মুদি দোকানি, চরফকিরার ডিলার হাসান মাহমুদ শুভ জানান, ডিলারশিপ পেয়েছেন, এখন দোকান নেবেন। রামপুর ইউনিয়নের ডিলার মো. এনাম জানান, তার কোনো সারের দোকান নেই। মুছাপুর ইউনিয়নের ডিলার মো. মাহবুব উল্যাহ সায়েম জানান, তিনি চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন। তিনি সারের ডিলারশিপ নিয়েছেন, দ্রুতই দোকান চালু করবেন। চরএলাহী ইউনিয়নের ডিলার আমিনুল হক মাসুদ দাবি করেন, তাদের আগে সারের দোকান ছিল। এদিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মো. আবদুস সালাম তার ইউনিয়নে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সার ডিলার নিয়োগ করায় তা বাতিলের দাবি করে ১২ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিয়োগকৃত ডিলার চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করার সুবাদে চট্টগ্রামেই বসবাস করেন। এলাকায় তার কোনো দোকানঘর বা গুদাম নেই। অভিযোগকারী একজন প্রকৃত সার ব্যবসায়ী, তার দোকানও আছে। তিনি দুই বছরের অধিক সময় ধরে সার, বীজ, কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও তিনি ডিলারশিপ পাননি। অথচ ভুয়া, অনুপযুক্তকে ডিলার করা হয়েছে। তাই তা বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সিরাজ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে খুচরা সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করে আসছি। কিন্তু ডিলারশিপ নেওয়ার জন্য আবেদন করলেও আমার নাম অজ্ঞাত কারণে লিস্টে নেই। আর যাদের কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই, তারাই সারের ডিলারশিপ পেল!’ এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। ডিলার নিয়োগে যাচাই-বাছাই কমিটি আমি আসার আগেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে।’
