নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার
চরফ্যাশনে পচা ইলিশের নজিরবিহীন স্তূপ
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে * শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত আড়তদাররা
Advertisement
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সাগরে অবৈধভাবে মাছ শিকারের খেসারত দিতে হচ্ছে চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট এলাকার মানুষদের। মা ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কিছু অসাধু ট্রলার মালিক ও জেলে সাগরে অবস্থান করে ইলিশ শিকার করেন। তবে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় দীর্ঘদিন তারা ঘাটে ফিরতে পারেননি। ফলে পর্যাপ্ত বরফের অভাব এবং ট্রলারের কোল্ড স্টোরেজে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মাছ দীর্ঘদিন আটকে থাকায় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ট্রলারের ভেতরেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর তিন দিনে সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ট্রলার সামরাজ ঘাটে ফিরেছে। এসব ট্রলার থেকে শত শত টন পচা ইলিশের স্তূপ খালাস করায় পুরো মৎস্যঘাটের বাতাস এখন তীব্র দুর্গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে। ওই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখে সাধারণ ক্রেতারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই বিপুল পরিমাণ পচা ইলিশ ধ্বংস না করে অনেক আড়তদার ও পাইকার তা কম দামে কিনে নিচ্ছেন। তারা ওই পচা মাছ লবণজাত করে শুঁটকি ও নোনা ইলিশ তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা পরে বাজারে বিক্রি হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ আহরণ করা সরাসরি সরকারি নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো ট্রলার যদি ওই সময়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে থাকে, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, যেসব বোট ঘাটে পচা মাছ নিয়ে এসেছে সেগুলো চরফ্যাশনের স্থানীয় বোট নয়; বরং অন্য জেলা থেকে ওই ঘাটে মাছ বিক্রি করতে এসেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন প্রশাসনের তৎপরতার তথ্য তুলে ধরে ওই মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ২২ দিনের ওই নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। ওই সময়ে মোট ৭৪টি অভিযান এবং ১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় দুই লাখ ৭১ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে। এছাড়া আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩২টি মামলাসহ ৫১ জন জেলেকে আটক করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এত অভিযানের পরও যারা সাগরে গিয়ে সরকারের মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে সামরাজ ঘাটে খালাস হওয়া শত শত টন পচা ইলিশ যাতে কোনোভাবেই নোনা ইলিশ বা শুঁটকি হিসাবে মানবদেহে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা আবশ্যক।
