Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

ঈশ্বরগঞ্জে ১৯ পদ শূন্য, অচল কোটি টাকার যন্ত্রপাতি * কমলনগরে এক্স-রে বন্ধ ১৮ বছর, নষ্ট হচ্ছে মেশিন

Icon

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) ও কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের পড়তে হচ্ছে বেশি ভোগান্তিতে। জটিল রোগী ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্যত্র। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, তৈরি হচ্ছে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৬টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইনি ও প্রসূতি, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, শিশু, চক্ষুসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও কনসালট্যান্টের পদ। গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গর্ভবতী নারীরা। প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পেয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। সিজারসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলে কম খরচে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে আর্থিক চাপ। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার ক্ষেত্রে দালাল চক্রের হয়রানিরও শিকার হতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।

শুধু চিকিৎসক সংকটই নয়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে পড়ে আছে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফখরুল হাসান চৌধুরী চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শূন্য পদে কনসালট্যান্ট ও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

এদিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে ১৮ বছর ধরে হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে সেবা। টেকনিশিয়ানের অভাবে তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের দুটি এক্স-রে মেশিন। এতে দরিদ্র রোগীরা সরকারি সেবাবঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে করইতলা এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৫ সালে এটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০২ সালে হাসপাতালে একটি এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালে টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, টেকনিশিয়ানের অভাবে মেশিন দুটি চালানো যাচ্ছে না। টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দুমকিতে টিআর-কাবিখার অর্থ লোপাট পিআইও’র

দুমকিতে টিআর-কাবিখার অর্থ লোপাট পিআইও’র

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ সন্তানের একজন গায়েব!

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ সন্তানের একজন গায়েব!

রায়পুর অনুমতি ছাড়াই ৩টি পুকুর ভরাট

রায়পুর অনুমতি ছাড়াই ৩টি পুকুর ভরাট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম