দুমকিতে টিআর-কাবিখার অর্থ লোপাট পিআইও’র
দুদকের অভিযানে অস্তিত্বহীন সাত প্রকল্পে ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের সত্যতা মিলেছে
নাঈম হোসেন, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুমকিতে কাজ না করেই টিআর-কাবিখা প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। তার বিরুদ্ধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শতাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট অভিযানে এখন পর্যন্ত সাতটি প্রকল্পে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৪ টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করে বিল উত্তোলন, নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিশন বাণিজ্য এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় এনফোর্সমেন্ট টিম বেশ কয়েকটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, যার মধ্যে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কুলসুম বেগমের আঙিনায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং দক্ষিণ চরবয়েরা এলাকায় একটি রাস্তা মেরামতের কথা কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কুলসুম বেগম ও রাস্তার কোনোটিরই অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব কাজে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধৌত করার র্যামসংলগ্ন স্থানে ভরাট ও ইট সলিংকরণ কাজে দুই লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও পরিদর্শনকালে দেখা যায়, স্থানটিতে ভরাট ও ইট সলিংকরণের কোনো কাজ করা হয়নি। এ সময় পুরোনো কিছু ইট বিছানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। অন্যদিকে সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ও বাউন্ডারি ওয়াল পরিদর্শন করে দুদক। এতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল চার লাখ টাকা। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে এনফোর্সমেন্ট টিম মাঠ ভরাটের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি। শুধু মাঠের এক পাশে সামান্য দেওয়ালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। দুদক টিম লেবুখালীর মকবুল শরীফের বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরীফের দোকন পর্যন্ত তিন লাখ টাকা দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করে দেখতে পায় বরাদ্দের টাকা দিয়ে রাস্তাটির মেরামত করা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি ১০ বছর আগে করা হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে কোনো মেরামত করা হয়নি। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের মাঠ ও ইউএনও’র বাসভবনের ফুলবাগানে মাটি ভরাট পরিদর্শন করে দুদক। যেখানে বরাদ্দ ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া পায়নি। এছাড়া এনফোর্সমেন্ট টিম পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন পরিদর্শন করে। যাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। আংগারিয়া, লেবুখালী, মুরাদিয়া, পাংগাশিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়াম্যানদের সঙ্গে কথা বলে দুদক জানতে পারে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কোনো টাকা পাননি তারা। এছাড়া সরেজমিনেও সিসি ক্যামেরার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এনফোর্সমেন্ট টিম কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট প্রকল্প পরিদর্শন করে। যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। সরেজমিন পরিদর্শনে দুদক দেখতে পায়, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার কাজ হয়েছে এবং বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন পিআইও। দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সব কাজই করা হয়েছে। তবে দুদক তাদের মতো করে পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো এবং সেখান থেকে পাওয়া পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
