বিয়ানীবাজারে রূপকের রহস্যজনক মৃত্যু
পাঁচ মাসেও খোলেনি হাত বাঁধা লাশের জট
তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ানীবাজারে নিজ ঘর থেকে দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় তরুণ সাদিকুল ইসলাম রূপকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে; কিন্তু চাঞ্চল্যকর মৃত্যুরহস্যের জট আজও খোলেনি। ঘটনার এতদিন পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত না হওয়ায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে থাকলেও তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। গত ৩১ মে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার খাসাড়িপাড়া গ্রামের আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে সাদিকুল ইসলাম রূপকের লাশ তার নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় রূপকের দুই হাত পেছন দিক থেকে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ক্ষুব্ধ জনতা খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। পরে নিহতের মা রাবিয়া বেগম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। জানা যায়, ঘটনার আগের দিন রূপকের মা, স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান কোনাগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রূপকেরও সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে যাননি। পরদিন বিকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রূপকের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করে, যাতে কিছু আর্থিক লেনদেনের হিসাব লেখা ছিল। দীর্ঘ পাঁচ মাস পেরোলেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারেননি। দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় একজন মানুষ কীভাবে আত্মহত্যা করতে পারেন? এ প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য। এ ছাড়া ঘটনার আগে-পরে রূপক কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তার মুঠোফোনের কললিস্ট ও ডিজিটাল তথ্যে কী পাওয়া গেছে এবং উদ্ধারকৃত চিরকুটের আর্থিক হিসাবের সঙ্গে ওই মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে। নিহতের মা রাবিয়া বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে এসআই আবদুল আহাদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। রূপকের পরিচিত ও আড্ডাসঙ্গীদের ওপর নজরদারিসহ বেশকিছু দিক খতিয়ে দেখা হলেও এখনো কাউকে চূড়ান্ত সন্দেহভাজন হিসাবে শনাক্ত করা যায়নি। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
