Logo
Logo
×

Advertisement

বাংলার মুখ

ডোমারে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে রাজস্ব ফাঁকি

একজনের নামে বরাদ্দ নিয়ে বাস করছে ১০-১২টি পরিবার

Icon

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব চলছে। একজনের নামে ফ্যামিলি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে ১০-১২টি পরিবার। এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক ১০টি ভবনের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিট বরাদ্দ নিয়ে অন্যান্য ইউনিটে দিব্যি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করছেন। যার নামে কোয়ার্টার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, তার বেতন থেকে ৪৫ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কেটে নেওয়া হয়। অথচ বরাদ্দ ছাড়া থাকা বাকি পরিবারগুলোর কাছ থেকে সমান ভাগে ভাগ করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ বাসা ভাড়া ফাঁকি দিতে পূর্ণাঙ্গ ফ্যামিলি কোয়ার্টারকে ‘ডরমেটরি’ ঘোষণা দিয়ে নামমাত্র ১০ শতাংশ হারে টাকা দিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করা হচ্ছে।

এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেট ভারী হচ্ছে। আর এ কাজে মূল সহযোগী হিসাবে হেড ক্লার্ক প্রতিমা রানীর নাম জানা গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১ নম্বর ভবন হাসনাহেনায় মোট ছয়টি পরিবার বসবাস করে। এদের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স রেজিনা, আনুশি, হাবিবা, রিয়ামনি, স্যাকমো শফিকুল ও বাবুর্চি আতিয়ার বসবাস করলেও কেউ তাদের পূর্ণাঙ্গ ৪৫ শতাংশ বাসা ভাড়া সমর্পণ করেননি। ২ নম্বর ভবনে বসবাসকারী সিনিয়র স্টাফ নার্স মাধবী, শিল্পী ও খাদিজা; ৩ নম্বর ভবন কৃষ্ণচূড়ায় বসবাসকারী আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মালেক, লতাবানী, প্রতিমা রানী ও জেসমিন; ৪ নম্বর ভবনে ড্রাইভার জাহিদ; ৫ নম্বর ভবনে মিডওয়াইফ জান্নাত; ৬ নম্বর ভবনে মিডওয়াইফ শাপলা; ৭ নম্বর পদ্মা ভবনে ফার্মাসিস্ট তারেক; ৮ নম্বর ভবনে সিনিয়র নার্স স্বপ্না, হাসিনা, লিপি, নয়ন, এমএলএসএস, মিডওয়াইফ হাবিবা; ৯ নম্বর ভবনে নার্স সালমা বেগম ও ফার্মাসিস্ট আসগর বসবাস করছেন।

১০ নম্বর যমুনা ভবনে কয়েকজন ডাক্তার থাকলেও কেউ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়া প্রদান করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে যতগুলো কোয়ার্টার আছে, তার কোনোটিতেই সরকারি নিয়ম মেনে কেউ থাকেন না। এখানে রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব চলছে। অথচ প্রকৃত বাসা ভাড়া দিয়ে থাকতে আগ্রহী এমন অনেকেই বাসা পাচ্ছেন না। এতে সরকার বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।

কৃষ্ণচূড়া ভবনে বসবাসকারী ওই অফিসের হেড ক্লার্ক প্রতিমা রানীকে তার নামে কোনো কোয়ার্টার বরাদ্দ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএফপিও) রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। অল্প সময়ে যতটুকু জেনেছি, সব নিয়ম মেনেই চলছে। কোনো অনিয়ম হলে খতিয়ে দেখা হবে।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় ঐক্যের আহ্বান

উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় ঐক্যের আহ্বান

ডোমারে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে রাজস্ব ফাঁকি

ডোমারে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে রাজস্ব ফাঁকি

ভালুকায় নারীকে হত্যার পর সুতিয়া নদীতে নিক্ষেপ

ভালুকায় নারীকে হত্যার পর সুতিয়া নদীতে নিক্ষেপ

বিয়ানীবাজারে রূপকের রহস্যজনক মৃত্যু পাঁচ মাসেও খোলেনি হাত বাঁধা লাশের জট

পাঁচ মাসেও খোলেনি হাত বাঁধা লাশের জট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম