উঠান-ছাদ-মাঠে পাঠশালা
শত শিক্ষার্থীর স্বপ্নযাত্রা
Advertisement
রইসুল আরাফাত
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাত্র একজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ২০১২ সালে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি করানোর উদ্যোগ শুরু করেছিলেন নুরুল করিম। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। তার কাছে পড়াশোনা করে অনেকে সুযোগ পেয়েছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধু পড়ানো নয়, অসচ্ছ্বল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও রক্তদানের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। শিক্ষকতার প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে তার এই পথচলা এখন অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের গল্প। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল না নুরুল করিমের। স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন নীলফামারী সরকারি কলেজে। শুরুতে শিক্ষকতা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার না পাওয়ার হতাশায় বারবার বিসিএস পরীক্ষা দেন। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তার দৃষ্টিভঙ্গি। বুঝতে পারেন, শিক্ষকতার মধ্যদিয়েও দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব। একজন শিক্ষার্থীর জীবন গড়ে তোলার মধ্যেও রয়েছে আলাদা আনন্দ। ২০১১ সালের ১ আগস্ট শিক্ষকতা শুরু করা নুরুল করিম বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শিক্ষক হয়ে ওঠার গল্পের বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি করানোর উদ্যোগ।
নুরুল করিমের ছাত্রজীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়ে ঢাকায় আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ২০০০ সালে দাখিল পাসের পর ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবনে গ্রামের শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছে। তার গ্রামের শিক্ষকেরা বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করানোর জন্য বছরজুড়ে বিনা মূল্যে পড়াতেন। তাদের সেই আন্তরিকতা থেকেই নিজের শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পান তিনি।
