একসঙ্গে ইউরোপের একাধিক দেশে পড়ার সুযোগ
Advertisement
রাশেদুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ভিন্ন দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তাদের আগ্রহী করে তোলে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেক সময় এ স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ইরাসমাস মুন্ডাস আইএলএসপিএসডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরও। দুবছর মেয়াদি এ স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের বিশেষত্ব হলো, একাধিক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো স্কলারশিপ পাবেন। পাশাপাশি পুরো প্রোগ্রামের টিউশন ফি মওকুফ, যাতায়াত, ভিসা ও বসবাসের ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আবেদন করা যাবে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ নিয়ে লিখেছেন রাশেদুল ইসলাম
এক প্রোগ্রামে কয়েক দেশের অভিজ্ঞতা
ইরাসমাস মুন্ডাসের এ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিসর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শুরুতে জার্মানির লিউফানা ইউনিভার্সিটি অব লুনেবুর্গে পড়াশোনা করবেন তারা। এরপর স্পেনের ইনস্টিটিউট বার্সেলোনা দ’এস্টাডিস ইন্টারন্যাশনালসে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিশেষায়িত বিষয়ে পড়ার জন্য চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো, ইউনিভার্সিটি লিব্রে ডি ব্রাসেলস, ইউনিভার্সিদাদে নোভা দে লিসবোয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব তার্তু। প্রোগ্রামের শেষ সেমিস্টারে গবেষণাভিত্তিক অভিসন্দর্ভ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ঐচ্ছিকভাবে কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি গবেষণা ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।
পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এতে সামার স্কুল, আইনি ক্লিনিক, অতিথি বক্তাদের বক্তৃতা এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন। প্রোগ্রামটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালত ও সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদনের জন্য স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, যা দিয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রোগ্রামের প্রতিটি সেমিস্টারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শর্ত পূরণ করতে হবে। যেসব আবেদনকারীর মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, তাদের ইংরেজিতে কমপক্ষে সি১ স্তরের দক্ষতা থাকতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে আইইএলটিএস একাডেমিকে ৭.০, টোয়েফল আইবিটিতে ৫ অথবা ক্যামব্রিজ ইংলিশ অ্যাডভান্সড (সিএ১) কিংবা প্রফিসিয়েন্সি (সি২) পরীক্ষার ফল উল্লেখ করা হয়েছে। গ্লাসগো ও ব্রাসেলসের নির্দিষ্ট শিক্ষাপথের জন্য অতিরিক্ত ভাষাগত শর্তও থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপথের শর্ত যাচাই করা জরুরি। আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে স্নাতক ডিগ্রির সনদ ও নম্বরপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতার সনদ বা স্কুল সমাপনী সনদ, ব্যক্তিগত বিবৃতি, সুপারিশপত্র, জীবনবৃত্তান্ত এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভর্তি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাপথ নির্বাচন করতে হবে। আবেদন ফরমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। সবশেষে চাওয়া নথিপত্র আপলোড করে তথ্য যাচাইয়ের পর আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ৪ জানুয়ারি ২০২৭। হাতে সময় থাকতেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা এবং শিক্ষাপথের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। কারণ, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে শুধু আবেদন করাই নয়, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক প্রোগ্রাম নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
