গাছের ডাক্তার কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া
Advertisement
নাহিদ হাসান
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাছের পাতায় হলুদ দাগ। ধানের জমিতে পোকার আক্রমণ। অথচ রোগের কারণ জানা নেই, কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, তা নিয়েও সংশয়। এত দিন এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষককে নির্ভর করতে হতো স্থানীয় কীটনাশকের দোকানের ওপর। এবার মুঠোফোনে গাছের ছবি তুলেই রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে সার, সেচ ও ফসলের বাজারদর জানার সুযোগ করে দিতে তৈরি হয়েছে ‘গাছের ডাক্তার’ নামের একটি অ্যাপ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আদনান শাহ আবিরের উদ্যোগে তৈরি এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। অ্যাপটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু গাছের রোগ শনাক্ত করেই থেমে থাকবে না; বরং কৃষকের পরবর্তী করণীয়ও জানাবে। আক্রান্ত পাতার ছবি তুলে আপলোড করলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগের সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকারের নির্দেশনা পাওয়া যাবে। লিখতে অসুবিধা হলে সরাসরি কথা বলেও নেওয়া যাবে পরামর্শ। এতে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত নন, এমন কৃষকের জন্যও সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
স্যাটেলাইটে নজরদারি : গাছের ডাক্তার অ্যাপের অন্যতম আকর্ষণ স্যাটেলাইটভিত্তিক ফসল পর্যবেক্ষণ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে জমির ফসলের সজীবতা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পানির চাপ বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পুরো জমির কোন অংশে ফসল দুর্বল হয়ে পড়ছে, তা ঘরে বসেই জানার সুযোগ পাবেন কৃষক। অ্যাপটিতে দেশের ৫৯টির বেশি প্রধান ফসলের রোগবালাই ও পরিচর্যাসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত রয়েছে। বীজ নির্বাচন, বপনের গভীরতা, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পর্যন্ত পাওয়া যাবে ধাপে ধাপে নির্দেশনা। জমির পরিমাণ অনুযায়ী সারের হিসাব দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি আবহাওয়া ও সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও এক জায়গায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।
খরচ সাশ্রয় ও ন্যায্যমূল্য : কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ শুধু কৃষকের ব্যয় বাড়ায় না, মাটি ও পরিবেশের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে গাছের ডাক্তার প্রয়োজনভিত্তিক পরামর্শ এবং নিমপাতা, ছাই, সাবান-পানির মতো বিকল্প ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে। পাশাপাশি ওষুধের সক্রিয় উপাদানের নাম উল্লেখ এবং জমির পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োগমাত্রা বোঝানোর মাধ্যমে ভুল ব্যবহার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। অ্যাপটিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের (ডিএএম) দৈনিক বাজারদর যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। এতে কৃষক নিজের উৎপাদিত ফসলের সম্ভাব্য ন্যায্যমূল্য সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারবেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকের আয় সুরক্ষায় এটি সহায়ক হতে পারে।
কৃষকের নিজস্ব কমিউনিটি : প্রযুক্তিনির্ভর পরামর্শের পাশাপাশি অ্যাপটিতে অভিজ্ঞ কৃষিবিদদের কাছ থেকে বিনামূল্যে নির্দিষ্ট সমস্যার পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কৃষকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, ফসলের ছবি ও সফলতার গল্পও ভাগ করে নিতে পারবেন ‘কৃষিক ফোরাম’-এ। ফলে এটি শুধু রোগ শনাক্তকরণের অ্যাপ নয়, কৃষকদের পারস্পরিক শেখার একটি ডিজিটাল পরিসর হিসাবেও গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। হ
