Logo
Logo
×

Advertisement

ক্যাম্পাস তারুণ্য

স্কলারশিপ পেতে পরিকল্পনা করুন

সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন

Advertisement

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও গবেষণার অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপের পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বিভাগের শিক্ষার্থী লামইয়া কবির। ‘লাইভ লিডিং ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাক্সিনোলজি এডুকেশন’ প্রোগ্রামে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আবেদনের প্রস্তুতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন যুগান্তরের জাবি প্রতিনিধি

ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পাওয়ার প্রস্তুতির শুরু কখন এবং কীভাবে?

আমার স্বপ্নের শুরু স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে। ফেসবুকে ইরাসমাস মুন্ডাসের একজন সাবেক স্কলারকে অনুসরণ করতাম। তার তৈরি বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে এ স্কলারশিপ সম্পর্কে জানতে পারি। জানতে পারি, এর মাধ্যমে একাধিক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।

স্কলারশিপের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

আমার মতে, প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিজের জন্য উপযুক্ত প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। ইরাসমাস মুন্ডাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামের যোগ্যতা, কারিকুলাম ও আবেদন প্রক্রিয়া আলাদা। তাই নিজের একাডেমিক পটভূমি, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। আবেদনের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে কাজ ভাগ করে নেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং আবেদনপত্র বারবার পর্যালোচনা করা প্রস্তুতির চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। আরেকটি বিষয় হলো, আমরা অনেকেই আগের বছর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল দেখে নিজেদের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করি। অন্যের অর্জন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া ভালো। তবে প্রত্যেকের শিক্ষাগত পটভূমি, অভিজ্ঞতা ও সুযোগ আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের শক্তির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে সমৃদ্ধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইরাসমাস মুন্ডাসে আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কী কী যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রয়োজন?

ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। তাই আবেদন করতে স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন। তবে শুধু একাডেমিক ফলাফল দিয়ে একজন আবেদনকারীর সম্পূর্ণ যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না। প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাও আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে পড়াশোনা করতে গেলে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলে কি ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব? এমন শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরবেন?

ভালো সিজিপিএ অবশ্যই একজন আবেদনকারীর জন্য ইতিবাচক দিক। কারণ, ভালো ফলাফলের মাধ্যমে একাডেমিক নিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতার প্রতিফলন ঘটে। তবে সিজিপিএই একজন আবেদনকারীর সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট একাডেমিক যোগ্যতা ও শর্ত থাকে। সেগুলো পূরণ করার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক গবেষণা, কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইন্টার্নশিপ, থিসিস, প্রকল্প কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেগুলো আবেদনপত্রে তুলে ধরা উচিত। মোটিভেশন লেটারে নিজের আগ্রহ, শেখার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলে সেই জায়গাটি অস্বীকার না করে নিজের উন্নতির চেষ্টা ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। তবে কোনো অভিজ্ঞতা বা অর্জন অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। আমার পরামর্শ হলো, সিজিপিএ কম বলে শুরুতেই নিজেকে অযোগ্য ভাববেন না। নিজের যোগ্যতা ও প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করুন। শর্ত পূরণ হলে আবেদন করুন এবং নিজের শক্তির জায়গাগুলো আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করুন।

আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীরা সাধারণত কী কী

ভুল করেন?

আমার মতে, প্রথম ভুল হলো পর্যাপ্ত গবেষণা না করে অনেক প্রোগ্রামে আবেদন করা। প্রতিটি প্রোগ্রামের একাডেমিক যোগ্যতা, কারিকুলাম ও ভবিষ্যৎ সুযোগ আলাদা। তাই শুধু স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা না করে নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে প্রোগ্রামটির সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন। দ্বিতীয় ভুল হলো, সব প্রোগ্রামের জন্য একই মোটিভেশন লেটার বা সিভি ব্যবহার করা। এতে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটি বেছে নেওয়ার কারণ এবং আবেদনকারীর প্রকৃত আগ্রহ স্পষ্ট হয় না। তৃতীয় ভুল হলো, আবেদনের শেষ সময়ের কাছাকাছি প্রস্তুতি শুরু করা।

আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এগোতে পারছেন না, তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?

প্রথমেই বলতে চাই, ইরাসমাস মুন্ডাসসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক যৌথ মাস্টার্স প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। এসব স্কলারশিপে নির্বাচিত হলে টিউশন ফি, ভ্রমণ ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। ফলে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি স্কলারশিপের শর্ত ও আর্থিক সহায়তার ধরন আলাদা। যাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে, তাদের বলব, আত্মবিশ্বাস সব সময় শুরুতেই আসে না। অনেক সময় কাজ শুরু করার পর নিজের অগ্রগতি দেখতে দেখতে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তাই সবকিছু জানার অপেক্ষায় না থেকে প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করুন, নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন এবং ছোট ছোট পদক্ষেপে প্রস্তুতি শুরু করুন। আপনার বা আপনার পরিবারের আর্থিক অবস্থা কিংবা চারপাশের মানুষ আপনার স্বপ্নকে কতটা বিশ্বাস করেন, সেসব যেন আপনার এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। স্কলারশিপ পেতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন এবং সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন। চেষ্টা শুরু না করলে সম্ভাবনাও তৈরি হয় না।

ভবিষ্যতে নিজের পড়াশোনা ও গবেষণা নিয়ে কী ধরনের স্বপ্ন দেখেন?

আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম শেষ করার পর আমার প্রাথমিক লক্ষ্য ইউরোপের ওষুধ ও জৈবপ্রযুক্তি শিল্পে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা। ভবিষ্যতে কোনো মহামারি দেখা দিলে যেন বাংলাদেশকে অতিরিক্তভাবে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সেজন্য নিজস্ব টিকা উদ্ভাবন, গবেষণা ও উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে অবদান রাখতে চাই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

একসঙ্গে ইউরোপের একাধিক দেশে পড়ার সুযোগ

একসঙ্গে ইউরোপের একাধিক দেশে পড়ার সুযোগ

স্কলারশিপ পেতে পরিকল্পনা করুন সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন

সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন

গাছের ডাক্তার কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া

গাছের ডাক্তার কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া

কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের হয়ে খেলবেন পাঁচ নারী শিক্ষার্থী

দেশের হয়ে খেলবেন পাঁচ নারী শিক্ষার্থী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম