ছাপানো হয় আন্দরকিল্লার প্রিন্ট কারখানায়
দেশি-বিদেশি ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার
চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি ২০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বিপুল পরিমাণ জাল নোট আগে কখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র নানা কৌশলে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তদন্তের স্বার্থে জাল নোট উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।
নগরীর চান্দগাঁও থানার নূরনগর হাউজিং সোসাইটির সুলতান টাওয়ারের একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার জাল নোট চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি জাল মুদ্রা জব্দ করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন-তানবিজ উদ্দিন ও আসিফ উদ্দিন। তানজিবের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এবং আসিফের চন্দনাইশ উপজেলায়। তাদের কাছ থেকে ৫৫ বান্ডিল জাল ইউরো, ৪৫ বান্ডিল ডলার, ২১ বান্ডিল দিরহাম, ৪৫ বান্ডিল জাল রিয়ালসহ বাংলাদেশি জাল টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বাংলাদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১ হাজার টাকা, ২০০ টাকা ও ৫০ টাকার জাল নোটের বান্ডিল। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল, সাতটি ক্রেডিট কার্ড, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের কর্মকর্তারা। তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, আন্দকিল্লার অঙ্কুর প্রিন্টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ছাপানো হয় জাল নোট। এরপর চক্রের সদস্যরা তা বাজারে ছড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জাল নোট তৈরি চক্র এক সময় শুধু দেশি মুদ্রা জাল করত। এখন তারা বিদেশি মুদ্রাও জাল করছে। নগরীর আন্দরকিল্লার বিভিন্ন প্রিন্ট কারখানায় বা প্রেসে ছাপানো হচ্ছে ইউরো, ইউএস ডলার, আরব আমিরাতের দিরহাম, সৌদি আরবের রিয়াল ও মিয়ানমারের কিয়াটসহ নানা মুদ্রার জাল নোট। এরপর সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয় সারা দেশে। আবার ই-কমার্স সাইট ‘দারাজ’-এর মাধ্যমেও এসব জাল নোট বিক্রি হয়। প্রতি বান্ডিল জাল নোট ছাপাতে খরচ পড়ে মাত্র ৩০ টাকা। যা বিক্রি হয় ১ হাজার টাকায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত মুদ্রার কাগজ সবচেয়ে বেশি টেকসই ও উন্নত মানের। এই কাগজের ৯০ ভাগ সুতা ও ১০ ভাগ সিনথেটিক। এই কাগজের শোষণক্ষমতা একেবারেই কম। বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোও এই কাগজ তৈরি করতে পারে না। কোনো জাল নোটেই এই কাগজ পাওয়া যাবে না।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম মোজাফ্ফর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় র্যাব মামলা করেছে। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা কারা, কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে এত টাকার জাল নোট ছাপাল তা উদঘাটন করবে।
জাল নোট তৈরি বহন ও লেনদেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ : বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাল নোট তৈরি, বহন ও লেনদেন করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সন্দেহজনক নোট পেলে বা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য অবগত হলে অবিলম্বে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
