নিয়োগ বাণিজ্যে কোটিপতি ঝিকরগাছার মাদ্রাসা অধ্যক্ষ
তৌহিদ জামান, যশোর
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের রফিউদ্দীন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মোত্তালিবের হাতে যেন আলাদিনের চেরাগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি হয়েছেন বহু সহায়-সম্পদের মালিক। যশোর শহরের খড়কি এলাকায় ৪ শতক জমির ওপর রয়েছে তার তিনতলা বাড়ি। ঝিকরগাছা পৌরসভার পুরন্দরপুর (সাদ্দামপাড়া) এলাকায় ১২ শতক জমি কিনেছেন। জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে থাকা মেহগনি ও শিশুগাছ বিক্রিসহ বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে তিনি অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সূত্রে আরও জানায়, ২০২০ সালে মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীর পাঁচটি পদে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেইসময় উপাধ্যক্ষ পদে ৭ লাখ টাকা, অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক পদে ৭ লাখ টাকা, কম্পিউটার অপারেটর পদে ৬ লাখ টাকা, আয়া পদে ৪ লাখ টাকা, নিরাপত্তাকর্মী পদে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রফিউদ্দীন আলিম মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ ২০২০ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে থাকা বেশকিছু মেহগনি ও বড় একটি শিশু গাছ বিক্রি করেছেন। গাছ বিক্রির টাকা, মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা নয়ছয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেই সম্পদশালী হয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় নেতা একবার মাদ্রাসায় এসেছিলেন তার অনৈতিক কারবারের খবর নিতে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা ফিরে যান। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বেশ কয়েকবার প্রতিনিধি গিয়েও উৎকোচে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল মোত্তালিব বাড়ি ও জমিজমা থাকার বিষয়টি স্বীকার বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছি। ২০০০ সালে আমার স্ত্রীও শিক্ষকতা পেশায় সম্পৃক্ত হন। আমাদের বেতন ও ব্যাংক ঋণ, স্ত্রীর বাবার বাড়ির সম্পদ এবং আমার পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে এই বাড়ি-জমি করেছি।
গাছ বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, অনেক গাছ নয়, দু-একটি বিক্রি হয়েছে। যার হিসাব রয়েছে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে। নিয়োগ সংক্রান্ত টাকা-পয়সার বিষয়ও তাদের কাছে আছে বলে তিনি দাবি করেন।
মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও অর্থ কমিটির সদস্য মাওলানা সাইদুল ইসলাম বলেন, গাছ বিক্রি যা হয়েছে, তা মসজিদ কমিটির। আমরা একটি মরা গাছ বিক্রি করেছিলাম। নিয়োগ সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিটির লোকজন বলতে পারবেন। তবে সেই সময় আমাদের একতলা ভবনটি দ্বিতীয়তলা করা হয়েছিল।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, আমি নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। কেউ যদি অভিযোগ দেয়, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রনী খাতুন বলেন, বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। যে সময়ের কথা বলছেন, তখন তো পরিচালনা কমিটি ছিল। আর্থিক অনিয়মের কোনো বিষয় পেলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
