Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

চাঁদপুর জেলা পরিষদ

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকার এফডিআর

Icon

মির্জা জাকির, চাঁদপুর

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাড়ে ২৮ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সরকারি-বেসরকারি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়েছে। এখন টাকা তুলতে গিয়ে হয়রান হচ্ছেন গ্রাহক ও খোদ জেলা পরিষদ। এর ফলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। নিরাপদ ও সরকারি ব্যাংক উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রাহকদের টাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়। সাধারণ গ্রাহকরা এখন এসব ব্যাংক থেকে নিজেদের সঞ্চয় তুলতে পারছেন না। জেলা পরিষদের এই আমানত কীভাবে উদ্ধার করা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম যুগান্তরকে বলেন, এই অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আমানত রেখে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কিন্তু তা না করে কেন এবং কাদের স্বার্থে এই বিপুল অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর করা হলো তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই টাকা নিরাপদে ফিরিয়ে এনে সরকারি ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারি এই বিশাল তহবিল কোন নিয়মে বা কার ইশারায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়েছিল, তার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন চাঁদপুরের সাধারণ নাগরিকরা। এই টাকাগুলো দ্রুত উদ্ধার করে জেলার উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর দাবি জানান তারা। জানা যায়, চাঁদপুরে জেলা পরিষদের ২৮ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৫ টাকা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করা হয়। আমানতের বেশির ভাগ টাকাই রাখা হয়েছে দেশের তালিকাভুক্ত কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে। সরকারি ব্যাংকে নামমাত্র কিছু টাকা রাখা হলেও বড় অঙ্কের ফান্ড চলে গেছে বেসরকারি খাতে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলা পরিষদের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) বড় অংশ রাখা হয়েছে দ্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) ২ কোটি ৪০ লাখ, পদ্মা ব্যাংকে (সাবেক দ্য ফার্স্টমার্স ব্যাংক) ১ কোটি ৭০ লাখ, এবি ব্যাংকে ১ কোটি ৫০ লাখ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ও যমুনা ব্যাংকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৫ টাকা। এ ব্যাংকগুলো আর্থিক সমস্যায় ভুগছে। কোনো গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এসব ব্যাংক ছাড়াও জেলা পরিষদের টাকা যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-ন্যাশনাল ব্যাংক ২৫ লাখ টাকা, ব্যাংক এশিয়া ২০ লাখ, ইসলামী ব্যাংক ২০ লাখ, উত্তরা ব্যাংকে ১৫ লাখ ও সিটি ব্যাংকে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত বলে জানা গেছে।

সরকারি ব্যাংকের মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকে ৩ কোটি ৭০ লাখ, সোনালী ব্যাংকে ২০ লাখ, কৃষি ব্যাংকে ৩০ লাখ, রূপালী ব্যাংকে ২০ লাখ, জনতা ব্যাংকে ২০ লাখ, পূবালী ব্যাংকে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা এফডিআর করা হয়। বর্তমান জেলা পরিষদের পরিচালনা পর্ষদ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন এবং তা রাষ্ট্রায়ত্ত কিংবা স্বায়ত্তশাসিত নিরাপদ ব্যাংকে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। তবে আমানতকারী ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট এবং টাকা ফেরত দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ফলে জেলা পরিষদের এই বিশাল পরিমাণ সরকারি অর্থ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কুমিল্লায় সোনালি আঁশের শিল্পে কালো মেঘ বন্ধ ৪৪ কারখানা ধুঁকছে ছয়টি

বন্ধ ৪৪ কারখানা ধুঁকছে ছয়টি

৫৬ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন প্রফেসর এনামুল

৫৬ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন প্রফেসর এনামুল

স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা

কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা

চাঁদপুর জেলা পরিষদ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকার এফডিআর

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকার এফডিআর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম