জাবি ছাত্রীর লাশ দাফন
বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে অত্যাচার করত স্বামী: শারমিনের মা
Advertisement
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন জাহানের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিনকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শারমিনের মা ফরিদা ইয়াছমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রোববার সকালে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মেয়ের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়িতে পৌঁছায় শারমিনের নিথর দেহ। তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে প্রায়ই অত্যাচার করত জামাই। হত্যার আগের দিন শনিবারও মেয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন শারমিন জানিয়েছিল, ঈদের ছুটি কাটাতে সে বাড়িতে আসবে। তিনি আরও বলেন, সাহরির সময় আমি মেয়েকে ফোন করি। কিন্তু ফোন রিসিভ করে শারমিনের স্বামী। আমি কথা বলতে চাইলে সে নানা অজুহাত দেখিয়ে বলে-সে রান্না করছে, পরে কথা বলবে। এর পরই ফোন কেটে দেয়। তিনি আরও বলেন, পরদিন সকালে মেয়ের নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও সংযোগ পাননি। পরে জামাইকে ফোন করলে তিনি বলেন, তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ঢাকায় আছেন ও শারমিন অসুস্থ, তার রক্তচাপ কমে যাওয়ায় হয়তো ফোন ধরতে পারছে না। এরপর বিকালে জানতে পারি, আমার মেয়ে আর নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, সে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার ন্যায়বিচার চাই।
শারমিনের চাচা ও মামলার বাদী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তার মা ঘটনার দিন সকালে শারমিনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে ফোন করে। শারমিনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার স্বামী ফাহিম জানায়, সে ঘুমিয়ে আছে। পরে কথা বলবে। এই বলে সে ফোনের লাইন কেটে দেয়। বিকালে আমরা জানতে পারি শারমিন মারা গেছে। এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।
