চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি
ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন
১০০ টাকার থার্মোমিটার বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা
Advertisement
এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় ফার্মেসি থেকে উধাও হয়ে গেছে ডিএনএস বা ডেক্সট্রোজ নরমাল স্যালাইন ও থার্মোমিটার। ডেঙ্গুরোগীদের প্লাটিলেট কমে গেলে ডিএনএস স্যালাইন এবং জ্বর পরিমাপের জন্য থার্মোমিটারের প্রয়োজন হয়। অভিযোগ রয়েছে, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। অনেক ফার্মেসিতে ডিএনএস স্যালাইন ও থার্মোমিটার পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। তবে ফার্মেসি মালিকদের দাবি, বেশি দামে কেনার কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গুরোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ডাব, পেঁপে, মালটা, লেবু ও কমলার দামও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালনা হলেও বাজারে এর সুফল মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত সুফিয়া ফর্মেসি, শিবলী ফার্মেসি, জাম্বুরী ফার্মেসি, মোহাম্মদিয়া ফার্মেসি, আবির ফার্মেসি ও মদিনা ফার্মেসিতে গিয়ে একটি ডিএনএস স্যালাইনও পাওয়া যায়নি। একইভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পূর্ব গেটে অবস্থিত একুশে, জাফর, লোটাস, কামাল, জয়নাব, তারেক ও নিহা ফার্মেসির কোনোটিতে ডিএনএস স্যালাইন পাওয়া যায়নি। হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে স্যালাইন পাওয়া গেলেও মিলছে না নির্ধারিত মূল্যে। ফার্মেসি মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতিটি ১০০ টাকার স্যালাইন সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় থার্মোমিটারও নেই বলে জানান ফার্মেসি মালিকরা। অনেকে ১০০ টাকার থার্মোমিটার ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। নগরীর বিভিন্ন ফলের দোকান ও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়, লেবু ২০ টাকায়, প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা সোহায়ল মাহমুদ বলেন, ‘গত রোববার ডাক্তার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে জানান আমি ডেঙ্গু আক্রান্ত। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় ওই দিন রাতের মধ্যেই এক হাজার এমএল ডিএনএস স্যালাইন দিতে বলেন। কিন্তু হালিশহর এলাকায় কোনো ফার্মেসিতেই স্যালাইন পাচ্ছিলাম না। পরে আবদুর পাড়া এলাকায় একটি ফার্মেসিতে পাই; কিন্তু অতিরিক্ত দাম চাওয়ায় পরদিন ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেই।’
পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমার ছেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসক বেশি বেশি তরল খাবার দিতে বলেছেন। বিশেষ করে ডাবের পানি, লেবু, মালটা ও পেঁপের জুস যেন দিই। বাজারে গিয়ে দেখি, ৫ টাকার লেবু ২০ টাকা, ছোট একটি ডাব ১৫০ টাকা এবং মালটা ও কমলার দাম দ্বিগুণ। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনে আনতে হয়েছে।’
এ ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসন এখন সরকারি ব্যক্তিদের প্রটোকল দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাদের নজর নেই। আর এই সুযোগে কতিপয় ব্যবসায়ী ডেঙ্গুরোগীদের জিম্মি করে ফেলেছে।’
চট্টগ্রামে সরকারি হিসাবে চলতি বছর এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৮৮৩ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২৬ জন চিকিৎসাধীন। বাকিদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।
