চট্টগ্রামে পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ
চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে
বরিশালে মাছের সরবরাহ কমায় সবজি বাজারে আগুন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে পড়েছে প্রভাব। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নদী ও সাগরের মাছের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বরিশালে চড়া হয়েছে সবজির বাজার। দুই নগরীতেই বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। একদিকে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির বোঝা, অন্যদিকে মাছের সংকটে বিকল্প খাবার হিসাবে সবজি কিনতে গিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। ব্যুরো থেকে পাঠানো খবর-
চট্টগ্রাম : পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ের চাল ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে চাল, সবজি, আলু ও কলাসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহণে আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকায়। চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চাল পরিবহণে ভাড়া ১৪-১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১-২৩ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে চাল পরিবহণের ভাড়াও ১৫-১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৫-২৭ হাজার টাকা হয়েছে। ফলে একেকটি ট্রিপে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৯ থেকে ১২ হাজার টাকা বা তারও বেশি।
চাল আমদানিকারক কামরুল হুদা বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ট্রাক ও লরিসহ বিভিন্ন পরিবহণের ভাড়া বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পণ্যের বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বস্তাপ্রতি চালের দাম ২০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে, যদিও মোকামে চালের দাম বাড়েনি। শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট চালের কেজি ৩ টাকা বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। পাইজাম চাল ৫৮ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং আটাশ চাল ৬২-৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬৩-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা হয়েছে। মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০-১২ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে বেড়েছে ৫-৮ টাকা। শুকনো মরিচ, আদা ও রসুনের দামও কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। পরিবহণ খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, খাতুনগঞ্জ, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন বাজার এবং শিল্পাঞ্চল মিলিয়ে চট্টগ্রামে প্রতিদিন কমবেশি ১৩ হাজার গাড়িতে পণ্য পরিবহণ হয়। জ্বালানি তেলের সংকটে কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারবাহী ট্রেইলারের ভাড়াও অস্বাভাবিক বেড়েছে। গাজীপুর থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ট্রাকচালক রবিউল জানান, আগে যেখানে ভাড়া ছিল ২০ হাজার টাকার কম, এখন সেখানে ৩০ হাজার টাকা নিতে হচ্ছে।
বরিশাল : বরিশালে গত ৯ দিনে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা নিষেধাজ্ঞায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে। এতে নদী ও সাগরের মাছের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। পুকুরের মাছও আসছে চাহিদার তুলনায় কম।
নগরীর বাজারে বরবটির কেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। কাঁচকলার হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। কলমি শাকের আঁটি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। গত ৯ দিনে পাঙাশের কেজি ১৮০ থেকে বেড়ে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চাষের কই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা হয়েছে।
ক্রেতা নুরু ইসলাম বলেন, মাছ কিনতে গিয়ে পছন্দের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। চাষের মাছের দামও বেড়েছে। তাই সবজি কিনে চলার চেষ্টা করছি, কিন্তু সেখানেও দাম বেশি। সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, পণ্যের দাম নির্ধারণে সরবরাহ ও চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারেন, সেজন্য নিয়মিত অভিযান চলছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
