Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

কুষ্টিয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আইসিইউতে

পরিচালক গ্রেফতার

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থী। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটিকে যৌন এবং শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় শিশুটির মা লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রামেক হাসপাতালে শিশুটির সঙ্গে রয়েছেন তার মা। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। মা জানান, তার মেয়েশিশুকে সাত-আট মাস আগে ভেড়ামারার একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। ওই মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক তার পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দোতলায় মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীদের রাখা হয়। খাওয়াদাওয়ার জন্য তাদের নিচে আনা হয়। শিশুটির মায়ের ভাষ্য, মেয়েকে ভর্তির পরই তিনি খবর পেয়েছিলেন মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নির্যাতন করা হয়। তাই দুই মাস আগে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, মেয়ে মাদ্রাসায় ভালো থাকবে। আশ্বাস পেয়ে তিনি মেয়েকে রেখে আসেন। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। মেয়ে জানিয়েছিল, ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যেতে। মা রোববার মেয়েকে আনতে মাদ্রাসায় যান। গিয়ে দেখেন মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন, পেট ফুলে গেছে। আঘাতে বাম পা ফুলে গেছে। মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী বলেন, ‘আপনার মেয়ের কিছুই হয়নি, বাড়িতে নিয়ে যান।’ পরে সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে আলট্রাসনোগ্রাম করান। তখন জানতে পারেন মেয়ের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। পরে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি মেয়েকে নিয়ে এসে রামেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মেয়েকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, মেয়েটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো রয়েছে। শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছে না। চকিৎসক জানান, শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। অক্সিজেন দেওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা শিশুটিকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেছেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বাচ্চাটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিজে থেকে কিছু বলছে না। তবে প্রাথমিক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। শংকর বিশ্বাস বলেন, যোনিপথ ছিঁড়ে যাওয়া ধর্ষণের কারণে হতে পারে, আবার অন্যভাবেও হতে পারে। গাইনি বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি-না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পদ্মা নদী থেকে বিএনপি নেতাদের বালু উত্তোলন ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

চট্টগ্রামে পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম