Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

মারধরে নেতৃত্ব দেন যুবদল নেতা

বগুড়ায় হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া যুবলীগকর্মীর মৃত্যু

Advertisement

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার থেকে দিনের বেলায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া শহর যুবলীগকর্মী আলাল শেখ (৩৬) মারা গেছেন। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে তিনি ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারা যান।

গত ২৮ মার্চ সকালে ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন চলাকালে সাধারণ সম্পাদক ওই প্রার্থীকে ধরে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বাগানের মধ্যে নিয়ে মব সৃষ্টির পর বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করলেও মূল হোতা যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। শুক্রবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব হোসেন জানান, আগের ৫৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশ, মামলা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া শহর যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সক্রিয় কর্মী আলাল শেখ শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপাড়ার মেরু শেখের ছেলে। তিনি শহর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক আলোচিত মতিন সরকারের শ্যালক। আলাল শেখ বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গত ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একই পদে প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই বাজারে মাংসের ব্যবসা করতেন। গত নির্বাচনে আলাল শেখের কাছে বিপুল ভোটে জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পরাজিত হন।

ওইদিন সকাল ৯টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে পূর্ববিরোধের জের ধরে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বাজার থেকে আলাল শেখকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা যুবদল কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বাগানের মধ্যে নিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে মব সৃষ্টি করে তাকে মারধর ও কুপিয়ে দুই পা ও একটি হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রক্তাক্ত জখম করা হয় বিভিন্ন স্থানে। নির্যাতনে অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে (আলাল) রিকশায় তুলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিকাল ৩টার দিকে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ও কিডনি অকেজো হলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে গত ২৮ মার্চ ঘটনার রাতে যুবলীগকর্মী আলাল শেখের বাবা মেরু শেখ সদর থানায় জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ডিবি পুলিশ এজাহারনামীয় চার আসামি রনি শেখ (৩০), তৌফিক খান তৌফিক (২৬), গোলাম রসুল নাহিদ (৩০) ও সুমন মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করে। এরপর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামি জেলা যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও অন্যদের গ্রেফতার করেনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জেলা যুবদল থেকে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাজিব হোসেন জানান, হত্যাচেষ্টার আগের মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পদ্মা নদী থেকে বিএনপি নেতাদের বালু উত্তোলন ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

চট্টগ্রামে পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম