অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় শিশুকে হত্যা
দুদিন পর মিলল লাশ
Advertisement
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার নিশাত নামের ছয় বছর বয়সি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় প্রতিবেশী ইসহাক মিয়া শিশুটিকে হত্যা করে জানিয়েছে পুলিশ। ওই আসামি পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিশাত সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার শিশুর লাশ দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খোলা জায়গা থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আসামিকে শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে আনে পুলিশ। তখন ঘটনার সঙ্গে ইসহাক জড়িত বলে নিশ্চিত হয় এলাকাবাসী। ক্ষোভে তারা ইসহাকের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ১৫ এপ্রিল দুপুরে নিশাত চিপস কেনার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এক যুবক নিশাতের বাড়ির দূরে একটি বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পায়। ওই শিশুর পরিবার কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে নিশাতের সঙ্গে তার দেখা হয়। সে ঘুরানোর কথা বলে নিশাতকে নিয়ে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায়। সারা দিন ঘুরে রাত ১০টার দিকে গ্রামে ফিরে নিশাতকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় সে। বাড়িতে গিয়ে মাকে বলে দেওয়ার কথা বললে ইসহাক তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সে লাশ বস্তায় ভরে রাতে ঘরেই রাখে। একদিন পর লাশ এনে বাইরে ফেলে রেখে যায়।
পিবিআই পুলিশ সুপার সচীন চাকমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তার বাসায় গিয়ে শ্বাসরোধে ব্যবহার করা গেঞ্জিটি উদ্ধার করি। যে পার্কে ঘুরতে যায়, সেখানেও আসামিকে নেওয়া হয়। মনে হচ্ছে ইসহাক একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। এরপরও অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
