কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা
চার ঘাতকের স্বীকারোক্তি
রিমান্ডে ১
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় চার ঘাতক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে ৬নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির খাস কামরায় চার আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বিচারকের সামনে ঘাতকরা হত্যার বর্ণনা দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুলেট বৈরাগী হত্যায় জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব। সোমবার বিকালে তাদের সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিকালে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারকের সামনে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেফতার সোহাগ, এমরান, রাহাত ও সুজন। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই টিটু কুমার নাথ অপর আসামি ইসমাইল হোসেন জনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাতে তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে, চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পর দিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার হোটেল আইরিশের পাশের ফুটপাত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেখান থেকেই ১১ এপ্রিল ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
পরিবার জানায়, বুলেট বৈরাগী প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার জন্য শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে ঢাকাগামী বাসে ওঠেন। পথে তার কুমিল্লা বাইপাসে নেমে যাওয়ার কথা। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ফোন করে তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছান।
তবে তার মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, শেষবার কথা বলার সময় তার ছেলের কণ্ঠ অপরিচিত মনে হয়েছিল। কিন্তু কথা বলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কল দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো হদিস না পেয়ে শনিবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এর পরপরই সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
বুলেট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া বাবুপাড়া গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসাবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগদান করেন।
চাকরির সুবাদে কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জসংলগ্ন পানপট্টি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তার বাবা, মা ও স্ত্রী ছাড়াও এক বছর বয়সি এক ছেলে সন্তান রয়েছে। নীলিমা বৈরাগী বলেন, শুনেছি চার আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ থানার এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, ৪ আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। মামলাটি মোটামুটি শনাক্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিচারের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন : জবি প্রতিনিধি জানায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ৫ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বহীনতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক প্রমুখ।
